মঙ্গলবার, ২০ই জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৮:৩৬ পি.এম
বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বিদেশিরা বাংলাদেশে আসছে, কিন্তু তারা নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিপথ, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও কাঠামোগত রূপান্তর নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, ভিয়েতনাম এবং চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ সমস্যায় পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিদেশিরা প্রতিনিয়ত এ দেশে আসছেন, কিন্তু বিনিয়োগ করছেন না। তারা নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
‘নির্বাচিত সরকার যদি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সকলেই বিনিয়োগ করবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলেই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠিকভাবে চলবে’, যোগ করেন তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বাজার ব্যবস্থাপনা বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এ বিশ্বাসের অভাব। আস্থাহীনতার কারণে বাজারে ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
আগামী সরকারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিকে কীভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়। সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। সংস্কার করা গেলে বাজারই ঠিক করবে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা করতে হবে। আমি একমত যে, বছরের পর বছর ধরে যেসব ‘গারবেজ অ্যাকাউন্ট’ তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিবছর হিসাব সাজিয়ে সমস্যা আড়াল করার পদ্ধতি আর চলবে না; এটি শুধু সমস্যা বাড়াচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সংকট দিনে দিনে গভীর হচ্ছে মূলত এই হিসাব সাজানোর সংস্কৃতির কারণে।
পুঁজিবাজার বিষয়ক মন্তব্যে, বিএনপির সিনিয়র নেতা বলেন, পুঁজিবাজার বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলবে না, তবে বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় এলে অর্থনীতির পাশাপাশি পুঁজিবাজারেরও সংস্কার করবে।
তার মতে, রাষ্ট্রীয় তহবিলের জন্য অতীতে সরকার ইতিমধ্যেই বৈদেশিক ঋণের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বৈদেশিক ঋণের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশে এই ধরণের চর্চা নেই। বিএনপি এ বিষয়ে গুরুত্ব দেবে বলেও জানান তিনি।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের সুরা সদস্য অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন, অর্থনীতিবিদ ও র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। এ সভায় বিদেশি ২৫০টি প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিনিয়োগে অংশগ্রহণ করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য নাগরিকদের গণভোটে অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন। তিনি বলেন, গণভোট জনগণের মতামত জানিয়ে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ, যা একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে নির্বাচনকালীন আচরণবিধি এবং গণভোট নিয়ে সচেতনতামূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতের দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে। এই বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে মো. খায়রুল আলম সুমন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরে অনেকে ভোটের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভোট দিতে পারবেন, যা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন যে এবারের নির্বাচন ও গণভোট উৎসবমুখর এবং স্বত spontaneously হবে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, পেছনের বাংলাদেশকে পেছনে রেখে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি এসময় জনগণকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে সাধারণ মানুষের মতামত শোনার পাশাপাশি ভোটাধিকারের ব্যবহার ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনার সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন আচরণবিধির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ হেল মাফি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মার্টিন স্কারবেজ ও আলেনকা চেরনি, কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম এবং ইউপি সদস্য মুসা আলীসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি। অনুষ্ঠানের শেষে জেলা প্রশাসক কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সজ্জিত কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ করার লক্ষ্যে সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাটি শেরপুর থানা মোড়ের হোটেল আয়সার ইন’র কনফারেন্স রুমে বেসরকারি সংস্থা ইনিস্টিটিউট ফর এনভায়রমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) এর সহযোগিতায় এবং হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম (এইচআরডি) এর আয়োজনে হয়ে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ’র আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর ডায়াবেটিস সমিতি ও জেনারেল হাসপাতালের সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, যিনি একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী।
আদিবাসী হদি সম্প্রদায়ের আইপি এইচ আর সদস্য স্বরস্বতী বিশ্বাস ও আদিবাসী সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্পের ফেলো সুমক বর্মণ-এর যৌথ সঞ্চালনায় সভায় জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের প্রধান সহকারী হাসান শরাফত বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
বক্তারা দাবি করেন, ‘শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য সরকারি সহায়তা, উপবৃত্তি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক তথ্য ও প্রাপ্তির নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা জরুরি।’
এসময় শেরপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঝরে পড়া ৪০ শিক্ষার্থী, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পলিটিকাল রিপোর্টার্স ফোরামের (পিআরএফ) নতুন কমিটি সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সংগঠনের একটি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠিত হয়। নবগঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বরিশালের গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খোন্দকার কাওছার হোসেন।
মঙ্গলবার বিকেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মুহাম্মদ আলমের সভাপতিত্বে তোপখানা রোডে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শেষে আগামী দিনের কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ হচ্ছেন- সভাপতি খোন্দকার কাওছার হোসেন (ভোরের কাগজ), সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রনি (সংবাদ প্রতিদিন), মো. মহসিন হোসেন (সারাবাংলা ডট নেট), সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী (মাইটিভি), যুগ্ম সম্পাদক মুহিববুল্লাহ মুহিব (বাংলাভিশন), সুজন দে (ভোরের ডাক), অর্থ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম (এশিয়ান টিভি), সাংগঠনিক সম্পাদক উমর ফারুক (যায়যায়দিন), দপ্তর সম্পাদক ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর (আলোকিত বাংলাদেশ), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সোহাগ (বাংলাদেশ প্রতিদিন), সাংস্কৃতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির (মোহনা টিভি), নারী সম্পাদক দিনার সুলতানা (বিটিভি), নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আলম (সংবাদ প্রতিদিন), মনিরুল ইসলাম (আমাদের সময় ডট কম), রাশেদুল হক (বাংলাবাজার), অমরেশ রায় (সমকাল), সৈয়দ সাইফুল ইসলাম (শীর্ষ নিউজ), কামরুল হাসান (সমকাল), জেহাদ চৌধুরী (দৈনিক সময়), জাহিদ বিপ্লব (ঢাকাটাইমস), মাহমুদুল হাসান (এনটিভি), কামরুজ্জামান বাবলু (নিউ নেশন), সুমন প্রামাণিক (ভয়েজ অব এশিয়া), রফিক মৃধা (দিনকাল), বোরহান উদ্দিন (ঢাকা মেইল)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে পরিদর্শন করেছেন। তিনি গণভবনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন এবং জাদুঘরের চূড়ান্ত কাজের অগ্রগতি দেখেছেন। এই সময় তিনি উল্লেখ করেছেন, 'এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। আমরা চাইনা ভবিষ্যতে কোথাও যেন আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক।' প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার বিকেলে জাদুঘরে পৌঁছান এবং তিনি সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস ও শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র ঘুরে দেখেন।
প্রেস উইং জানিয়েছে, পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন, 'দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন।' তিনি এই জাদুঘরকে গণমাধ্যমের অর্থে শিক্ষা ও উপলব্ধির স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, 'যারা আয়নাঘরে বসে থাকবেন, তারা বুঝতে পারবেন কীভাবে বন্দিরা চোখে চোখে ভয়াবহতা কাটিয়েছে।'
তিনি উল্লেখ করেছেন, 'এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে কীভাবে আমরা সবাই এক থাকতে পারি সেটা আমাদের মনে আনতে হবে।' প্রধান উপদেষ্টা তরুণদের প্রেরণা সম্পর্কে বলেন, 'তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, এটাই আমাদের শিক্ষা।'
ড. ইউনূস সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ জাদুঘরের কাজের সাথে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান, এবং দ্রুত নতুন সেকশনগুলো উন্মুক্ত করার কথা জানান। তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, 'জুলাই জাদুঘর ইতিহাসের চিহ্ন রেখেই দাঁড়িয়ে থাকবে এবং বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ডিসকোর্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের আহ্বায়ক ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ আরও অনেকে। শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'জাদুঘরে যেসব ঘটনা সংরক্ষিত আছে, সেগুলো দেশের ভবিষ্যতকে অনুধাবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ