প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০১৭ সালে কুমিল্লার ১৭তম উপজেলা হিসেবে লালমাই যাত্রা শুরু করে। এই জনপদটির জনসংখ্যা ৩ লাখ, এবং এটি ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক কারণে দীর্ঘকাল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। নতুন উপজেলা পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে, লালমাই নামের উপজেলায় লাল মাটির পাহাড় বা ঐতিহাসিক লালমাই পাহাড়ের কোনো অংশ না থাকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আক্ষেপ বিদ্যমান। তাই, তিন লক্ষাধিক স্থানীয় মানুষ লালমাই পাহাড়ের ঐতিহাসিক অংশকে এই উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
১৯৭১ সালের পর এই অঞ্চলের মানুষ বৃহত্তর লাকসাম উপজেলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। প্রশাসনিক কাজ বা ভূমির দাপ্তরিক নথিপত্রের জন্য তাদের সব সময় দক্ষিণের লাকসামে যেতে হতো, যা ছিল দূরবর্তী এবং সময়সাপেক্ষ।
পরে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ‘কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা’ গঠিত হলে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক সংযোগ সদর দক্ষিণের সাথে যুক্ত হয়। কিন্তু দূরত্বের কারণে স্থানীয়দের যাতায়াত এবং নাগরিক সেবা পাওয়ার কষ্ট অব্যাহত থাকে।
পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের অধীনে ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘লালমাই উপজেলা’ গঠিত হয়। নতুন উপজেলা গঠনের ফলে সদর দক্ষিণ ও লাকসামের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরশীলতা কমে যায় এবং লালমাইবাসী নিজেদের ঘরের কাছে প্রশাসনিক সেবা পেতে শুরু করে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির নিশ্বাস দেখা যায়। নতুন উপজেলায় দ্রুত ও স্বল্প খরচে সেবা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তুষ্ট।
কামাল মিয়া, একজন চা বিক্রেতা, বলেন, "সদর দক্ষিণ উপজেলায় যখন বড় মেয়ের এনআইডি (NID) করতে গিয়েছিলাম, তখন যাতায়াতেই চার দিন সময় এবং প্রায় আটশত টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু ছোট ছেলের এনআইডি করার সময় লালমাই উপজেলায় মাত্র ২০ টাকা ভাড়ায় সব কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের যে কত বড় শান্তি হয়েছে, তা বলে বোঝানো যাবে না।"
আমিন মিয়া, একজন কৃষক, জানান, "সদর দক্ষিণ দূরে থাকায় আগে কোনো সুযোগ-সুবিধা পেতাম না। যাতায়াত খরচের ভয়ে যেতামই না। এখন উপজেলা কাছে হওয়ায় সরকারের সব ধরনের সেবা ও সহায়তার খবরাখবর সহজেই পাই।"
যদিও উপজেলার নাম ‘লালমাই’, বাস্তবে লালমাই পাহাড়ের ভৌগোলিক উপস্থিতি এই উপজেলায় নেই। তাই স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ জনগণের দাবি, উপজেলার নামের ঐতিহাসিক তাৎপর্য রক্ষা করতে লালমাই পাহাড়ের অংশবিশেষ (বিশেষ করে সদর দক্ষিণ উপজেলার বাড়পাড়া ইউনিয়ন) লালমাই উপজেলার সাথে যুক্ত করা হোক। এর মাধ্যমে উপজেলার নামের পেছনের মূল ইতিহাস ও ঐতিহ্য পূর্ণতা পাবে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক সম্প্রতি লালমাই উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা লালমাই পাহাড়ের অংশ বিশেষ হলেও লালমাইতে অন্তভূক্ত করার দাবি জানান এবং তাৎপর্যসহ এই দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। উপস্থিত সুধীজন ও সর্বস্তরের মানুষ এই প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
এ বিষয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, "আমি লালমাই ও নাঙ্গলকোট এলাকার মানুষের অনুভূতি ও দাবির বিষয়ে পুরোপুরি অবগত। লালমাই পাহাড়ের অংশবিশেষকে এই উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করার যে গণদাবি উঠেছে, তার সাথে আমি একমত। জনগণের এই ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনে জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।"
উপজেলার নামকরণ এবং লাল মাটির পাহাড়ের ঐতিহ্যকে এক সুতায় বাঁধতে প্রশাসনিক সীমানা পুনর্নির্ধারণের এই দাবি এখন পুরো লালমাইবাসীর একচ্ছত্র প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন