প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৪ সালে ফুলগাজীর আমজাদহাটে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সাত আসামি। মামলার রায় ঘোষণার আগে সর্বোচ্চ দুই বছর হতে সর্বনিম্ন তিন মাস জেল খেটেছেন তারা। এরপর ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের পর আদালত মামলার রায়ে জানিয়েছে তারা ধর্ষক নন অর্থাৎ, নির্দোষ। গত ১ অক্টোবর এ মামলায় শুনানী শেষে তাদের ৭ জনকে অব্যাহতি দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খাঁন।
আসামিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায় ঘোষণার আগে ধর্ষণ অভিযোগে দায়ের করা এই মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম (২৬) ও দুই নম্বর আসামি নেজাম উদ্দিন (২৫) দুই বছরের বেশি সময় বিনা অপরাধে কারাগারে ছিলেন। এছাড়াও মামলার তিন নম্বর আসামি নিজাম উদ্দিন শুক্কুল (৩৭), ছয় নম্বর আসামি আবদুল মালেক (৫৩), সাত নম্বর আসামি মোহাম্মদ হানিফ (২৫) এক বছর দুই মাস কারাগারে ছিলেন। মামলার অপর দুই আসামী আবদুল লতিফ (৬০) ও আবদুল হান্নান (৩৬) তিন মাস পনের দিন কারাভোগ করেছেন। তারা সকলেই ফুলগাজীর আমজাদহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফ উদ্দিন মজুমদার শাহীন দৈনিক ফেনীকে বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় সাত আসামির কারও সঙ্গে বাদীর ডিএনএ মেলেনি। আদালত তদন্তে আসামিদের গণধর্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় বাদীর নারাজি গ্রহণ না করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
মামলার নথি ও আসামিপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ছাগলনাইয়ার একটি ভাড়া বাসায় এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আসামিদের দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে তাদের ফাঁসাতে ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল।
মামলার তদন্তে সাত আসামির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে বাদীর সঙ্গে তাদের কারও ডিএনএ না মেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাদীর নমুনায় একজন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে বাদী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ ছিল।
মামলাটির তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মামলা হতে খালাসপ্রাপ্ত জানান, প্রায় দুই বছরেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি এবং এ সময়ে পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। পরে বাদীর আবেদনের পর আদালত তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দেওয়া প্রতিবেদনে মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানান, এই মামলার বাদী হাজেরা আক্তার এর আগেও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অপর একটি পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি আদালত ওই মামলায়ও সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন