প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাঙামাটির পর্যটনের আইকন ঝুলন্ত সেতুতে প্রাণ ফিরে এসেছে দীর্ঘ বিরতির পর। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ার ফলে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ এই সেতুটি ১ মাস ২ দিন পর পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে। পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে সেতুর চারপাশে চেনা ব্যস্ততা ফিরে এসেছে, যা পর্যটকদের জন্য স্বস্তির বিষয়। সংশ্লিষ্টদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
এ মৌসুমে সেতু ডুবে যাওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। গত ১১ সেপ্টেম্বর সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়, এবং নিরাপত্তার কারণে ওই দিনই পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেতু ডুবে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়; প্রতিবছর বর্ষায় হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে এই প্রধান আকর্ষণ তলিয়ে যায়।
চলতি মৌসুমে প্রথম দফায় ২৯ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেতুটি পানিতে তলিয়ে ছিল। গত বছরের ২৩ অক্টোবর ৮৫ দিন পরে সেতুটি ভেসে উঠেছিল। এর ফলে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সংশ্লিষ্টরা লোকসানে পড়েন। সর্বশেষ ১২ অক্টোবর বিকেল থেকে পানি সরতে শুরু করলে সংস্কার কাজ শেষে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। জেলার এই জনপ্রিয় পর্যটন স্থাপনা পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা উচ্ছ্বসিত হয়ে আসছেন।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে সেতু এলাকায় পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেউ সেতুতে সেলফি তুলছেন, আবার কেউ নৌ ভ্রমণ উপভোগ করছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা তানিয়া আক্তার মন্তব্য করেন, ‘পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি আর কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ নীল জলরাশি মন ভালো করে দেয়। বারবার আসতে মন চায়। দারুণ উপভোগ করছি।’
বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, ‘দেশের অন্য পর্যটন স্পট থেকে রাঙামাটি অনন্য। একদম আলাদা। এখানকার সৌন্দর্য নিজের চোখে না দেখলে বোঝানো যায় না। এ জন্য সুযোগ হলেই ছুটে আসি এখানে। আমাদের ভাগ্য ভালো বলতে হবে, ডুবে থাকা সেতু ভেসে উঠায় ঘুরতে পারলাম, ছবিও তুললাম। অসাধারণ ভালো লাগার একটা অনুভূতি নিয়ে ফিরতে পারব।’
ঝুলন্ত সেতুর নৌ ঘাটের টোল আদায়কারী ফখরুল ইসলাম জানান, ‘একমাসের বেশি সময় ডুবে থাকার পরে সেতু ভেসে উঠেছে। এরই মধ্যে সেতুর সংস্কার কাজ শেষ করে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করে গতকাল থেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি পূজার ছুটি আর পর্যটন মৌসুমে প্রচুর পর্যটক ভ্রমণে আসবেন।’
ঝুলন্ত সেতু টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকায় সরকার প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। সেতু বন্ধ থাকলে রাঙামাটির পুরো পর্যটন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
দৃষ্টিনন্দন এ ঝুলন্ত সেতুটিতে বছরে ১০ লাখের বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন। জনপ্রতি ৩০ টাকা প্রবেশ ফি থেকে বাৎসরিক আয়ের অঙ্কে দাঁড়ায় প্রায় কোটি টাকার অধিক। অথচ প্রতি বর্ষায় পানির নিচে হারিয়ে যায় এই আকর্ষণ, যা একসঙ্গে বিরূপ প্রভাব ফেলে পর্যটন খাতে। তাই বারবার সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার বদলে পানির উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবি পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন