প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রান্তে এসে সংগঠনটির ভিপি, জিএস ও এজিএসের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৯ লাখ টাকা আবাসিক শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ অনাবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য এসব উদ্যোগ সরাসরি উপকারে আসেনি। এ কারণে ছাত্র সংসদের বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের স্বার্থের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও চাকসু ও হল সংসদগুলোর কার্যক্রম মূলত আবাসিক শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে আবাসিক হলের সুবিধা, শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনের দিকে কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কম লক্ষ্য করা গেছে। যদিও চাকসুর কিছু সম্পাদকের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর অংশকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা দেখা গেছে।
জানা গেছে, চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনির যাতায়াত, আপ্যায়ন ও চা-নাশতার জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় চার লাখ টাকা। তিনি ব্যক্তিগত ও আনুষঙ্গিক কাজে এ অর্থ ব্যয় না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি ছাত্র হল এবং মাস্টারদা সূর্য সেন হলের নারী ব্লকের জন্য মোট ১১টি ডিপ ফ্রিজের ব্যবস্থা করেন। যদিও এই উদ্যোগটি আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা তৈরি করেছে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা এর সরাসরি সুফল পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে, চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিবের আপ্যায়ন, চা-নাশতা, যাতায়াতসহ আনুষঙ্গিক খাতে বরাদ্দ ছিল প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এ অর্থের কোনো অংশ ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করেননি এবং বরাদ্দ থেকে কোনো টাকা উত্তোলনও করেননি। দায়িত্বের শেষ সময়ে এসে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধানে বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
চাকসুর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিকও তাঁর জন্য বরাদ্দ করা দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা নিজের বা অফিসের কাজে ব্যয় করেননি বলে জানা গেছে। বরাদ্দকৃত অর্থ তিনি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সেবামূলক উপকরণ নিশ্চিত করতে ব্যয় করেছেন।
তিন নেতার বরাদ্দের অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যবহারের উদ্যোগ থাকলেও এর সুবিধাভোগী কারা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন শহর থেকে শাটল ট্রেনে যাতায়াত করেন। তাঁদের জন্য বসার জায়গা, খাবারের সুবিধা কিংবা যাতায়াতকেন্দ্রিক সমস্যা সমাধানে এ অর্থের কোনো অংশ ব্যয় করা হলে তা আরও বেশি শিক্ষার্থীর কাজে আসত কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
হল সংসদের কার্যক্রমেও আবাসিকদের প্রাধান্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হল সংসদগুলোর নেতারা সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হলেও তাঁদের অধিকাংশ কার্যক্রম আবাসিক শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এমন উদ্যোগ নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চাকসুর সাবেক ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, "আমি যে ফ্রিজগুলো দিয়েছি ঐই ফ্রিজগুলোতে ২টি পার্ট আছে। যার একটি পার্ট অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা যেন ব্যবহার করতে পারে সেটি বলে দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "চাকসুতে বাজেটের কয়েক গুণ কাজ করেছি। যার কালেকশনগুলো ভিপি জিএসের মাধ্যমে হয়েছে। এগুলোর সুযোগ সুবিধা অনাবাসিকরাও পাচ্ছে।"
তবে চাকসুর সাবেক জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, "আমি আমার বাজেটের যে ফ্রিজগুলো দিয়েছি সেগুলো অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া আমি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, শারীরিক শিক্ষা বিভাগ, বিভিন্ন হলে পানির ফিল্টারের ব্যবস্থা করেছি। যা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদেরও কাজে আসবে।"
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, "আসলে আড়াই লক্ষ টাকা পরিমাণে খুবই কম। এই টাকা দিয়ে ৭০ শতাংশ অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কল্যাণে স্থায়ী কিছু করা যাবে বলে আমার মনে হয়না। তাই আমি আবাসিক হলগুলোতে স্থায়ী কিছু করার চেষ্টা করেছি। যেন হলোগুলোতে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা আসলেও সুবিধা নিতে পারবে।"
তিনি আরও বলেন, "চাকসু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা নিয়েছে। এই টাকা তো শিবির প্যানেলই পেয়েছে। আর সেই টাকা দিয়ে ওনারা শুধু জামায়াত শিবিরকে প্রমোট করেছে। ওনারা চাইলে এই টাকা দিয়ে অনাবাসিকদের জন্য স্থায়ী কিছু করতে পারতো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন