প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপি, ঘিওরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনি এবং যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্য প্রকাশ করেন।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর অর্জিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উদঘাটন এবং আয়ের উৎসের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য এই আদেশ প্রদান করা হচ্ছে।
এছাড়া, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনির নামে ৬৯ লাখ ৯৪ লাখ ১৮৪ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঠিক হিসাব বের করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী একই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুবলীগ নেতা মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অবৈধ বালু ব্যবসা, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর মালিকানাধীন ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবুল বাশারের নামে আরও বেনামী স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকতে পারে। তাই তাঁর অর্জিত সব সম্পদের উৎস এবং সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৯৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল এই বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেনÑসহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য্য এবং উপ-সহকারী পরিচালক ওয়াশকুরুনী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন