প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির আদেশ আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আদালত দিয়েছেন। উপজেলার কাঁচিয়া উইনিয়েনের আলোচিত গৃহবধূ আফজুন বেগম হত্যা মামলার রায়ে তার স্বামী মোক্তার হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ এম রেজা জাকের এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আফজুন বেগম পারিবারিকভাবে মোক্তার হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ১৫ বছরের সাংসারিক জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। মোক্তার হোসেন তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া শালিকে বিভিন্ন সময়ে খারাপ ইঙ্গিত দিতেন।
আফজুন বেগম তার বড় বোনের কাছে বিষয়টি জানালে স্বামীকে জিজ্ঞেস করায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে আফজুন বেগমকে মোক্তার হোসেন প্রায়ই মারধর ও নানা ধরনের নির্যাতন করতেন।
২০১৯ সালের ৩০ জুন রাতে, মোক্তার হোসেন আফজুন বেগমকে ঘরের মধ্যে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে জামাতা মোক্তার হোসেনকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় দীর্ঘ সাত বছর পর বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এবং আসামির ১৬৪ ধারা জবানবন্দির আলোকেই আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. তৈয়ব বলেন, এই মামলায় আসামি তার স্ত্রীকে গলাটিপে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। মামলাটি তদন্তের পর আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষী এবং নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ সব বিষয় পর্যালোচনা করে আদালত সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন এবং রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। তিনি আরও জানান, এ রায়ে আমরা খুশি, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।
মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. ফরিদুর রহমান বলেন, মামলায় যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা কেউ বলেননি যে আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত। তবে আসামি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি স্ত্রীর মৃত্যু ঘটিয়েছেন। এ আলোকেই হাকিম তাকে ফাঁসির আদেশ দেন। তিনি জানিয়েছেন, এ মামলা আপিলে গেলে সাজা কমে আসতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন