প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা জেলা জুড়ে কিশোর গ্যাং এবং বখাটেদের কার্যকলাপ রোধে একটি নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতের এই বিশেষ অভিযানে একযোগে জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালানো হয় এবং মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সেই হত্যাকাণ্ডের পর জনদাবির মুখে পুলিশ এই ধরপাকড়ের বিশাল অভিযানে নেমে ৬২৪ জনকে আটক করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে উঠতি বয়সের কিশোর-তরুণদের মধ্যে ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাজিক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১৮টি থানা ও ডিবি পুলিশ একযোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং প্রতিটি থানার বখাটে অধ্যুষিত ও চিহ্নিত আস্তানাগুলোতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযানের তদারকি করেন।
কোতোয়ালি থানায় সর্বোচ্চ আটক:
অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। এই থানা এলাকা থেকে ৭৫ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া দাউদকান্দি থানা এলাকা থেকে ৫৯ জন, বুড়িচং থানায় ৫০ জন, সদর দক্ষিণ থানায় ৪৬ জন, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১ জন এবং লাকসাম থানায় ৩৫ জনকে আটক করা হয়। বাকি ১২টি থানায় আটক ৩১৮ জনের যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
দাউদকান্দি থানায় স্বজনদের হট্টগোল:
এদিকে, জেলাজুড়ে পুলিশের এই কঠোর অভিযানের মধ্যে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় একটি তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৯টার দিকে কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক হওয়া সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে দাউদকান্দি থানায় বিপুলসংখ্যক স্বজন ভিড় জমায়। একপর্যায়ে তারা থানায় হট্টগোল ও ভাঙচুর চালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, এই সুযোগে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকজন আটক হওয়া কিশোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্বজনদের একাংশ পুলিশ স্টেশনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে জোরপূর্বক আটকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর থানার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
সাঁড়াশি অভিযানের পেছনে রয়েছে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ড:
গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার কিশোর গ্যাংয়ের নৃশংস হামলায় নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লা ফুঁসে ওঠে এবং বখাটেদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের প্রতি তীব্র জনদাবি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ এই মেগা সাঁড়াশি অভিযান শুরু করতে বাধ্য হয়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সমাজ থেকে কিশোর গ্যাংয়ের অপসংস্কৃতি দূর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের বিষয়ে পূর্ব অপরাধের রেকর্ড বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও স্ক্রিনিং শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন