প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চালু করার পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণে বিনিয়োগসহ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন ও কৃষি খাতে চীনের সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার (১২ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর তিনি এই আহ্বান জানান, যখন তিনি প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, এসময় তিনি ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরাম ও ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনে অংশ নিতে একটি সংসদীয় দলের নেতৃত্বে চীন সফর করছেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, যদি কুনমিংয়ের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আবাসন, ভাষা ও চিকিৎসা খরচ হ্রাসসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়, তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য এ দেশের মানুষ কুনমিংকে বেছে নেবে। তিনি একই সঙ্গে কুনমিংয়ের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশের চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়ার অনুরোধও জানান।
হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হি তাও এবং কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক শিয়া সুয়েশান সংসদীয় দলের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে চলমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তারা কুনমিংয়ে অধ্যয়নরত ও পড়তে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা ও আবাসন সুবিধা সহজ করার কথাও জানান।
এছাড়া, ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে হাইজেং গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার জানান, চলতি জুন মাসের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তার দ্বিতীয় বিদেশ সফরে চীন আসছেন। বৈঠকে তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর পূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে।
বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোকতাদির চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো, পর্যটন, শিক্ষা, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি খাতে তাগিদ দেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আকতার হোসেন এমপি, BNP দলের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব, সংরক্ষিত আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জেসমিন সুলতানা জুঁই, বেইজিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল আলম এবং কুনমিংয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও ইউনান প্রাদেশিক সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে সংসদীয় দলটি কুনমিং থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঔষধি গ্রাম ‘পাওথাও’ পরিদর্শন করে। ৭৪৪ জন বাসিন্দার এই গ্রামে যুগ যুগ ধরে ভেষজ উদ্ভিদ চাষাবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এ ছাড়া দিনের শেষভাগে ডেপুটি স্পিকার চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ও চায়না মিডিয়া গ্রুপকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন