প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের রাজধানী দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের কারণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ, একাধিক জায়গায় সড়ক নদীতে রূপান্তরিত হয়েছে, যার ফলে যান চলাচলে ব্যাহত ঘটে, এবং ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভবন ধসে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। সবমিলিয়ে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জনজীবন।
এদিকে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) বৃহস্পতিবার সারাদিন ব্যাপী আরও বৃষ্টিপাতের সাথে বজ্রপাত ও ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অবিরাম বৃষ্টির কারণে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি এলাকার সড়কে নদীর পানির মতো স্রোত বইছে। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রোহিনীতে; সেখানে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবন ধসে পড়ে তিনজন মারা যান।
আইএমডি’র তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লির প্রধান আবহাওয়া কেন্দ্র সফদরজং-এ ৭২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে লোদি রোডে ৮০.২ মিলিমিটার, রিজ-এ ৭৭.৮ মিলিমিটার, পালামে ৬৩ মিলিমিটার এবং আয়ানগরে ৫৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
দিল্লি শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সদর বাজার, গ্রেটার কৈলাশ, বদরপুর, নাসিরপুর, তেলিবাড়া, মহাবীর বাজার, স্বরূপ নগর, কুশক রোড, মুনিরকা, দ্বারকা, বিকাশ মার্গ, পূর্ব দিল্লি এবং নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং রাস্তায় পানি জমে থাকার ফলে সকালের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
অবিরাম বর্ষণের ফলে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে। সকাল থেকেই সড়কে জলাবদ্ধতা, গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ এসেছে দিল্লির বিভিন্ন পৌর সংস্থার কাছে। অভিযোগ পেয়ে এছাড়াও পৌরসভা সড়ক পরিষ্কার ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি পরিষেবা দলগুলোকে মোতায়েন করেছে। ভারী বর্ষণের প্রভাব কেবল দিল্লিতেই নয়, বরং গুজরাট, কেরালা, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানাতেও বিস্তৃত হয়েছে।
কেরালার ওয়েনাড এলাকায় ধস ও বর্ষণজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চারজন হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারই একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। রাজ্যটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী এ পি অনিল কুমার বলেছেন, আজ সকালেই জোন-১ এলাকায় একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাই ও পুনে শহরেও একটানা বর্ষণ চলছে, যা স্বাভাবিক জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বুধবার পুনেতে একটি ভবন ধসে পড়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকদিনের বৃষ্টিতে গুজরাটের সুরাটেও ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিচু এলাকায় বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষকে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বণ্টনের কাজও চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন