প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যে যুদ্ধকে ইসরায়েলের জন্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সেই যুদ্ধ নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন ইসরায়েলের নিজ দেশের মানুষ। বিস্ফোরণের শব্দ থেমে গেছে, কিন্তু পরাজয়ের অনুভূতি যেন এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে ইসরায়েলরাজনীতিতে। নতুন একটি জরিপ বলছে, অধিকাংশ ইসরায়েলির বিশ্বাস এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত জিতেছে ইরান।
হিব্রু ইউনিভার্সিটি ও আগাম ইনস্টিটিউটের যৌথ জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ দশমিক ১ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে তেহরান। শুধুমাত্র তাই নয়, ৮২ দশমিক ৯ শতাংশের মতে, এই যুদ্ধ ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকেও দুর্বল করে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।
জরিপে আরও দেখা যায়, ৮৬ শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণ যুদ্ধের ফলাফলকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ, সামরিক অভিযান শেষ হলেও সাধারণ মানুষের মনে বিজয়ের অনুভূতি তৈরি হয়নি।
আর এই অসন্তোষের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর। অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন, পুরো যুদ্ধ পরিচালনায় তিনি দুর্বল ছিলেন কিংবা ব্যর্থ হয়েছেন। আর ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন না যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সাফল্যের যে দাবি নেতানিয়াহু করেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে। রাজনৈতিক সমর্থনেও তার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে। মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ছিল ৪০ শতাংশের বেশি। জুনে সেটি নেমে এসেছে ৩০ শতাংশেরও নিচে। একই সময়ে তাঁর লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তাও কমছে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধ নিয়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক মনোভাবও। প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পক্ষে। এমনকি এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নন।
এদিকে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। কিন্তু লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় আবারও শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেই কেবল আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবাননের সংকটকে আলাদা করে দেখার আর সুযোগ নেই। কারণ যুদ্ধের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন কূটনৈতিক আলোচনার ওপরেও প্রভাব ফেলছে সরাসরি। একদিকে জনসমর্থন কমছে, অন্যদিকে যুদ্ধের ফল নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন হয়তো পার করছেন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন