প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশের সভাপতিত্বকে কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন একাডেমিতে ‘দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট: সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধান’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আমরা আমাদের অবস্থানকে কাজে লাগাব। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় বৈশ্বিক মঞ্চে এই সংকটের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরা হবে।’
তিনি আরও জানান, সংকটটি যতই গুরুতর ও জটিল হোক না কেন, কূটনৈতিক উপায়ে এর সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী। তাই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়েই কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে আলোচনায় রাখা, আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ। এর ফলে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে তাদের নিজ ভূমি রাখাইনে ফিরে যেতে সক্ষম হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে স্বদেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আমরা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়- উভয় পর্যায়ে একসাথে কাজ করব।’
তিনি উল্লেখ করেন, মিয়ানমারে স্বার্থ ও প্রভাব রয়েছে এমন প্রধান অংশীদারদের সাথে আলোচনা করবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে চীন, আসিয়ানভুক্ত দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও অন্যান্য বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই অংশীদারদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সচল রাখতে আর্থিকভাবে অবদান রেখেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যদিও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিতে হবে, তবে এই ধরনের জটিল ও দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের জটিল বিষয়ে হুট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যায় না। এখানে ধৈর্যের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চালাতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারণ এই সমস্যাটির সাথে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কালই এই সমস্যার সমাধান করে ফেলব- এমন দাবি করছি না। তবে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’
হুমায়ুন কবির জানান, নিজেদের সীমিত জমি ও সম্পদের ওপর প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও কেবল মানবিক কারণে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত খুলে দিয়েছিল বাংলাদেশ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে কেবল বাংলাদেশের একার দায় হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্ব ও দায়ভার নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেবল মুখে সহানুভূতি দেখালেই চলবে না উল্লেখ করে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আর্থিক সহায়তা বাড়াতে এবং মিয়ানমারের সাথে কূটনৈতিক ও নেপথ্য আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, একটি টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ এই দীর্ঘায়িত সংকট সমগ্র অঞ্চল এবং এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় চ্যানেলে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন