প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা বা কারাদণ্ড দেওয়া নয়; বরং মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা।
আজ (শুক্রবার) সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির উদ্যোগে রাজধানী ঢাকা এলাকার বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে বিভিন্ন বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও ধ্বংস কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নগরবাসী যদি সচেতন হয়ে নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ এবং ফুলের টবগুলোতে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করে, তবে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তিনি ছাদ, আঙিনা কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত ফেলে দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির ছাদের ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা কিংবা অন্য যেকোনো পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবার সতর্কতা অত্যন্ত প্রয়োজন। নাগরিকদের সচেতনতা বিবেচনা করে তিনি জানান, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ার ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে সবথেকে কার্যকর উপায়।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের কাজ হচ্ছে ঢাকার নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে শহরটিকে ডেঙ্গুমুক্ত করা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো থেকে নাগরিকদের বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করা যাবে। তিনি নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করে লার্ভা ধ্বংসের আহ্বান জানান।
এ সময়, তিনি ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-কে নির্মাণাধীন ও আবাসিক ভবনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সদস্যদের নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, তিনি জানালেন, সরকারি কোয়ার্টারগুলোতেও একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস মন্তব্য করেন, নগরবাসী সচেতন না হলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নির্মূল করা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন বাসাবাড়ি, স্থাপনা, রেস্তোরাঁ সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বাসাবাড়িতে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে।
ইমরুল কায়েস আরো বলেন, টানা তিন দিনের অভিযানে বনানী এলাকার সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এটি নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও স্টিকার লাগিয়ে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তাদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান।
অভিযানের সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেছা, বনানী সোসাইটির সহ-সভাপতি ড. তানভীর আহমেদ খান, সাধারণ সম্পাদক ইরফান ইসলাম, জয়েন্ট ট্রেজারার ডা. শাহেদ হায়দার চৌধুরী, ম্যানেজার সৈয়দ মোস্তাক উদ্দীন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন