প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডিএ) কার্যালয় ক্যাম্পাসের পুলিশ বিভাগ থেকে পাওয়া অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীর বিবরণ পর্যালোচনা করতেই অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নথিপত্রের তথ্য
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটির ‘চাই ফাই’ (Chi Phi) ফ্র্যাটারনিটি হাউসে। ভুক্তভোগী সাবেক শিক্ষার্থী (যিনি আইনগত সুরক্ষার অংশ হিসেবে ‘জেন ডো’ নামে পরিচিত) পুলিশকে দেওয়া প্রাথমিক বিবৃতিতে জানান, পার্টি চলাকালীন অ্যালকোহল ও কেটামিন সেবনের পর একাধিক ব্যক্তি তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে বেশ কয়েকজন তরুণ শারীরিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালায়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে:
সাক্ষ্য ও সাক্ষাতকার এড়িয়ে যাওয়া: ক্যাম্পাসের পুলিশ তদন্ত কর্মকর্তা জেফরি নর্থরপ ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের প্রতিনিধি জেফ হাডলকে জানান যে, পুলিশ একাধিক সাক্ষীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে, চ্যাট মেসেজ পর্যালোচনা করেছে এবং কিছু সন্দেহভাজনের আইনজীবীদের সাথেও কথা বলেছে।
প্রসিকিউটরের অনীহা: এই অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেনের কার্যালয় নতুন কোনো প্রমাণ পর্যালোচনা করতে আগ্রহ দেখায়নি। ভুক্তভোগীর প্রাথমিক ৬ পৃষ্ঠার একটি বিবৃতির ওপর ভিত্তি করেই কোনো ফৌজদারি অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গাফিলতির সমালোচনা ও বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন তার সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে দাবি করেন, ভুক্তভোগী জেন ডোর দেওয়া প্রথম বিবরণ অনুযায়ী অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত উপাদান ছিল না। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের পুলিশ বাহিনীর সংগৃহীত অতিরিক্ত নথি তাদের বিশ্লেষণের জন্য “প্রাসঙ্গিক ছিল না”।
তবে আইন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অপরাধ সংক্রান্ত প্রসিকিউটররা এই প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক ও সাবেক প্রসিকিউটর রিক ট্রানফিও জানান, জটিল কোনো যৌন অপরাধের তদন্তে কেবল একটি ক্যাম্পাস পুলিশের খসড়া বিবৃতির ওপর নির্ভর করা বড় ধরনের গাফিলতি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ভাবমূর্তি এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক সময় নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
ঘটনাটি সামনে আসার পর নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এবং কর্নেল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি রাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ প্রসিকিউটর (Special Prosecutor) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং তদন্ত পুনরুজ্জীবিত করে নতুন করে ফৌজদারি মামলা করার ক্ষমতা প্রদান করেছেন।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী টমাস জিউফ্রা সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "শুরু থেকেই আমার মক্কেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতার শিকার হয়েছেন।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন