প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্যাস সংকটে ১৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পরে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায় আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যবসায়ীরা সরকারের সহায়তা চাচ্ছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তারা ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবি জানিয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী অংশে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের শিল্পকারখানা অন্তত ১৫ দিন গ্যাস সংকটে পড়ে গেছে। প্রথমে এর প্রভাব রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেলেও পরে সংকটটি চট্টগ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে উৎপাদন বিশালভাবে স্থবির হয়ে পড়ে বিভিন্ন শিল্পকারখানাগুলো।
গত তিন দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানাগুলো এখন সরকারের সহযোগিতা চাইছে।
এই অবস্থাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফের দাবি জানিয়ে অর্থমন্ত্রীকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বকেয়ার অজুহাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অনুরোধ জানিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকেও চিঠি দিয়েছেন তারা।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, গ্যাস সংকটে গার্মেন্টসের প্রেসিং ও ফিনিশিং সেকশন কিছু দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বন্ধ ছিল। এ কারণে বহু প্রতিষ্ঠান রফতানি করতে পারেনি এবং কেউ কেউ এয়ারফ্রেইটের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন। এতে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। শুধু গার্মেন্টসই নয়, স্টিলসহ গ্যাসনির্ভর প্রায় সব শিল্পও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটে বিশেষ করে গার্মেন্টস কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে বলে দাবি করেছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির মতে, প্রতি মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হলেও গ্যাস সংকটের কারণে চলতি মাসে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে জুলাই মাসের বিল পরিশোধে বাড়তি সময় চাওয়ার পাশাপাশি বকেয়ার অজুহাতে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে চিঠি দিয়েছে বিজিএমইএ। বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রফিক চৌধুরী বলেন, পুরো তৈরি পোশাক খাতে প্রতি মাসে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের রফতানি হয়। যদি ১৫ দিনের মতো উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে এটি স্বাভাবিকভাবেই প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এদিকে, বিশ্বমন্দার প্রভাবে গত অর্থবছরের পুরো সময় রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে ছিল দেশের তৈরি পোশাক খাত। এর মধ্যে গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা আরও বড় ধরনের ক্ষতির আবহে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সরকার ছাড়া ব্যবসায়ীদের কোন বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেছেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা।
বিজিএমইএর পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল কিংবা ব্যাংক ঋণ পরিশোধে কোনো বিলম্ব হলে যেন অতিরিক্ত জরিমানা না করা হয়। অন্তত এই জরিমানা থেকে উৎপাদনকারীদের কিছুটা ছাড় দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে মোকাবিলা করে আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবেন শিল্পমালিকরা।
রাজধানী ঢাকা, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রয়েছে ৪ হাজারের বেশি গার্মেন্টস কারখানা। এই গোত্রে রয়েছে আরও বেশ কয়েক হাজার ভারী ও মাঝারি শিল্পকারখানা। এসব শিল্প থেকে বছরে ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রফতানি আয় আসে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন