প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি এবারের আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়টিতে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার জন্য সাতজন প্রার্থী প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এগিয়ে থাকলেও, এখনও কোনো প্রার্থীকে ঘিরে চূড়ান্ত ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি।
১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক গোপন ভোটে গ্রিনস্প্যান নয়টি ‘উৎসাহিত’ ভোট অর্জন করেন। গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট আটটি ভোট পান। তবে গ্রিনস্প্যানের বিরুদ্ধে পাঁচটি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট পড়েছে, আর রড্রিগেস-বিরকেটের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছয়। এর ফলে সর্বশেষ ভোটেও কোনো প্রার্থীকে ঘিরে প্রয়োজনীয় ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি।
বর্তমানে প্রতিযোগিতায় থাকা সাতজন প্রার্থী হলেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, উগান্ডার ওলারা ওতুনু এবং সেনেগালের মাকি সাল। চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেত সম্প্রতি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় প্রার্থীর সংখ্যা আট থেকে সাতজনে নেমে এসেছে।
এই সাতজনের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেননি। তাই বর্তমান প্রতিযোগিতায় যদি কোনো নারী নির্বাচিত হন, তবে সেটি হবে সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। তবে চলমান অনানুষ্ঠানিক ভোটের ফলাফল থেকে চূড়ান্তভাবে কোনো প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত নয়টির সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে কোনো একটি দেশের ভেটো এড়াতে হবে। তাই অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি স্থায়ী সদস্যদের গ্রহণযোগ্যতাও চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিন দফা ভোটের পরেও স্পষ্ট ফ্রন্ট-রানার না থাকায় প্রক্রিয়াটি এখনও অনিশ্চিত। গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গ্রিনস্প্যান, রড্রিগেস-বিরকেট ও এসপিনোসা এখনও বাস্তবসম্মত প্রতিযোগিতায় রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শেষ মুহূর্তে নতুন প্রার্থী যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে নিউইয়র্কে চলমান এই অধিবেশনের মধ্যেই নতুন মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতাও গুরুত্ব পাচ্ছে।
গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন মহাসচিব দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করার পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে নিয়োগ দেবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন