প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে চায়, এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেছেন, "ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়।" পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষা আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।
পানি ইস্যুতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, "আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন। এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে।"
ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, "খুব শিগগির এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানিচুক্তি নবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।"
তিনি আরও জানান, ১৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। হুমায়ুন কবির বলেন, "এখানে কথাবার্তা ও আলোচনা চলছে এবং চলবে। আমাদের অবস্থান থেকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। যদি দুই দেশের মধ্যে আন্তরিকতা থাকে—সিনিয়র অফিশিয়াল লেভেলে, লিডারশিপ বা নেতৃত্ব পর্যায়ে এবং পানিবিষয়ক আলোচনায় যারা দুই দিক থেকে কাজ করবেন, তাদের মধ্যে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। যদি নেতৃত্বের মানসিকতা থাকে যে তারা এগিয়ে এসে সহযোগিতা করবে, তবে আমরা অবশ্যই এই সমস্যার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধান পাব।"
পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান বাংলাদেশের অন্যতম ভিত্তি বলেও জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, "আলোচনা, ডায়ালগ এবং কূটনীতির মাধ্যমেই কেবল এই বিষয়গুলো সমাধান করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক আইনের যে অবস্থানগুলো রয়েছে, সেগুলোকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।"
দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
দেশের ভবিষ্যৎ সংকট ও বিষয়গুলো মোকাবিলায় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে হুমায়ুন কবির বলেন, "আমরা অতীত বা সাধারণ ধারার মতো কাজ না করে গুণগত উপায়ে দেশের ভবিষ্যতের সংকট ও বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে চাই।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন