প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের কালকিনিতে বাসার জানালা ও ব্যালকনির গ্রিল কেটে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি করা স্বর্ণালংকারের একটি অংশ এবং স্বর্ণ বিক্রির দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, কালকিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল হুসনা (৩৮) সন্তানদের পড়াশোনার সুবিধার্থে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ২৮ আগস্ট সকাল ৯টার মধ্যে কোনো একসময় তাঁর স্বামীর তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ পাশের ফ্ল্যাটের ব্যালকনি ও জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার ও রুপার নুপুর চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে ছিল প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণের গলার হার, টিকলি, একাধিক জোড়া আংটি, প্রায় আড়াই ভরি ওজনের হাতের রুলি, লকেটসহ চেইন, কানের দুল ও পাশা, নাকফুল, ব্রেসলেট এবং দুই জোড়া রুপার নুপুর।
ঘটনার পর কালকিনি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালকিনি উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে মো. সুজন সরদার (৩৪) নামে একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতঘর থেকে চুরি করা স্বর্ণালংকার বিক্রির দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চুরির কাজে ব্যবহৃত দুটি সেলাই রেঞ্জ, একটি হাতুড়ি, একটি প্লাস, একটি ১২ নম্বর গুডি রেঞ্জ, একটি ১৫ নম্বর ডালি ও গুডি রেঞ্জ এবং একটি সুইচ গিয়ার চাকু জব্দ করা হয়।
পরে সুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালকিনি বাজারের বিসমিল্লাহ জুয়েলার্সে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে দোকানের মালিক এনামুল হক (৪৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, এনামুল হকের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের গলার ছেঁড়া হার, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি স্বর্ণের টিকলি, একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট এবং একটি গলিত স্বর্ণের টুকরা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে গলার ছেঁড়া হারটির ওজন এক ভরি ১০ আনা ৫ রতি ৮ পয়েন্ট, কানের দুলের ওজন ৬ আনা ৪ রতি ৮ পয়েন্ট, টিকলির ওজন ২ আনা ৫ রতি ৩ পয়েন্ট, ব্রেসলেটের ওজন ৩ আনা ২ রতি ৮ পয়েন্ট এবং গলিত স্বর্ণের টুকরাটির ওজন ৬ আনা ৩ রতি।
এ ঘটনায় কালকিনি থানায় ৩০ আগস্ট মামলা করা হয়েছে। মামলাটির এফআইআর নম্বর ২৩ এবং জিআর নম্বর ১৫৪। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৫৪, ৩৮০ ও ৪১১ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, “সকল অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অভিযানে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন