প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি নির্মাতারা যদি কারখানা স্থাপন করে গাড়ি তৈরি করতে চান, তাহলে তিনি তাতে বাধা দেবেন না। তবে, মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশ চীনা গাড়ি নির্মাতাদের মার্কিন বাজারে প্রবেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
শুক্রবার ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, "যদি চীনা কোনো গাড়ি নির্মাতা যুক্তরাষ্ট্রে এসে কারখানা খুলে গাড়ি তৈরি করতে চান, তবে আমার আপত্তি নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের গাড়ি নির্মাতারাও যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা পরিচালনা করে, যা মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে। ট্রাম্পের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব কারখানায় মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া। তবে, তিনি চান না চীনা কোম্পানিগুলো মেক্সিকোতে গাড়ি তৈরি করে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠাক। ট্রাম্প বলেন, "আমি চীনা গাড়ির বিরুদ্ধে নই। তবে চীনা গাড়ি যাতে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সেটি আমি চাই।"
দুই সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি বিক্রির সুযোগ দেওয়া নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের মার্কিন বাজারে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বুধবার মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিসা স্লটকিন দাবি করেন, ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বড় কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি বিক্রির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন- এমন আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, "এ ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে ভুল হবে।" তবে স্লটকিনের এই বক্তব্যকে ট্রাম্প "পুরোপুরি ভুয়া গুজব" বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তার প্রশাসন চীনা গাড়িকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বাইরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ির ওপর ইতোমধ্যে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২৫ সালের শুরুতে একটি নতুন বিধি জারি করে, যার ফলে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রীবাহী গাড়ি তৈরি ও বিক্রির সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে, ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত গাড়ির সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি, চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক রয়েছে, যা চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী একটি জোট চীনা গাড়িকে মার্কিন বাজার থেকে স্থায়ীভাবে দূরে রাখতে নতুন আইন করার দাবি জানিয়েছে। গত সপ্তাহে অ্যালায়েন্স ফর অটোমোটিভ ইনোভেশন মার্কিন কংগ্রেসকে দ্রুত এ বিষয়ে আইন পাস করার আহ্বান জানায়। জোটটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছে জেনারেল মোটরস, ফোর্ড, টয়োটা, ফক্সওয়াগেন, হুন্দাই, হোন্ডা ও স্টেলান্টিসের মতো বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তারা ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রস্তাবিত আইন পাস করার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যালায়েন্স ফর অটোমোটিভ ইনোভেশনের প্রধান নির্বাহী জন বোজেলা কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, "চীনা গাড়ি নির্মাতারা সরকারি সহায়তা পাওয়া গাড়ি এবং ইন্টারনেট-সংযুক্ত সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতি বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে।" তার মতে, চীনা গাড়ি নির্মাতাদের এই বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্প ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চীনা গাড়ি নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে তিনি বলছেন, চীনা কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে এসে কারখানা করলে তাতে বাধা দেবেন না। অন্যদিকে, তার প্রশাসন ইতোমধ্যে চীনা গাড়ির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ও উচ্চ শুল্ক বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনা গাড়ি নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে কারখানা তৈরি করলে এবং সেখানে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান হলে তিনি সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে, চীনা গাড়ি মেক্সিকোতে তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তার অবস্থান কঠোর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন