প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদর বাজারে সরকারি খাস জমিতে ১৮টি দোকান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে সেগুলো এখনও ইজারার আওতায় আসেনি। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঠ জরিপে কলেজ রোডের একটি এলাকায় সরকারি খাস জমিতে এসব দোকানের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু বাজারের সীমানা বা পেরিফেরি নির্ধারণের জটিলতায় ইজারা প্রক্রিয়া অগ্রসর হয়নি। অন্যদিকে, পৌর সদরের মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
সীতাকুণ্ড সদর ভূমি অফিসের সূত্রে জানা যায়, পৌর সদরের কলেজ রোডে গ্রামীণফোন কার্যালয় থেকে লাকি স্টোর পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ১৭ শতক এক নম্বর খাস জমি রয়েছে। ২০২৫ সালের মাঠ জরিপে ওই জমির প্রায় ১০ শতকে ১৮টি দোকানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে জরিপের পরও দোকানগুলো ইজারার আওতায় আসেনি। ফলে এসব জমি থেকে ইজারার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী, বাজারের পেরিফেরি নির্ধারণের জন্য সরেজমিন জরিপ ও নকশা প্রস্তুতের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠানোর বিধান রয়েছে। নকশায় বাজারের অন্তত ৫০ শতাংশ ভূমি সংরক্ষণ এবং পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা রাখার বিধানও রয়েছে। তবে সীতাকুণ্ডের সংশ্লিষ্ট জমির পেরিফেরি অনুমোদনের প্রস্তাব কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের হাটবাজার ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও এসব জমি ইজারার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সীতাকুণ্ডের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন "আমার দেশ"কে জানান, দায়িত্বে থাকাকালে মাঠ জরিপ করিয়ে দোকানগুলো একসঙ্গে ইজারার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে পেরিফেরি নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতায় প্রক্রিয়াটি এগোয়নি। তাঁর মতে, ইউএনও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলে পেরিফেরি অনুমোদন এবং দোকানপ্রতি জায়গা নির্ধারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
এদিকে, পৌর সদরের মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। সীতাকুণ্ড পৌরসভা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম "আমার দেশ"কে বলেন, সাবেক ইউএনও তারিকুল আলমের সময়ে অভিযান চালিয়ে খাস জমি ও মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছিল। পরে কিছু দোকান আবার বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব দোকান থেকে অগ্রিম অর্থ ও নিয়মিত টাকা আদায়ের অভিযোগও করেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দোকানমালিকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রফিকুল ইসলাম আরও জানান, ফুটপাত ব্যবহার করতে না পারায় শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ব্যস্ত মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানজট বাড়ছে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
খাস জমি ও ফুটপাত দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম "আমার দেশ"কে বলেন, সরকারি খাস জমি কিংবা জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান চালাতে দেওয়া হবে না। অভিযোগ যাচাই করে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সরকারি খাস জমির ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরিফেরি নির্ধারণের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করা এবং মহাসড়ক ও ফুটপাতের ওপর দোকান বসানোর অভিযোগ যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইজারা প্রক্রিয়া ও দখলসংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে সরকারি জমি থেকে রাজস্ব আদায় এবং পথচারীদের চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন