প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মদ পান করে অসুস্থ হয়ে কৃষ্ণ বাড়ৈ (৩৪) এবং মনোতোষ হালদার (৩৮) নামের দুই যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়া, মদ পান করে অসুস্থ অনিল বাড়ৈ নামে আরও এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তারা মদ পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
নিহত কৃষ্ণ বাড়ৈ কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘলীয়া গ্রামের গেদু বাড়ৈর ছেলে এবং নিহত মনোতোষ হালদার একই গ্রামের মহেন্দ্র হালদারের ছেলে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় নেওয়ার পর সেখানে তাদের মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজার সময় ওই গ্রামের কয়েকজন যুবক স্থানীয়ভাবে তৈরি চুল্লিমদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে রবিবার কৃষ্ণ বাড়ৈ এবং মনোতোষ হালদারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার মধ্যে অনিল বাড়ৈ নামে আরেক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃত কৃষ্ণ বাড়ৈর ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ বলেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমার ভাইসহ তিনজন ডেকোরেটরের কাজ করতে পাশের গ্রাম খাগবাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে কয়েকজন মিলে মদ পান করে। মদ পানের কয়েক ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা কৃষ্ণকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করি। গত রবিবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ব্যাপারে আমরা থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করিনি।’
মনোতোষ হালদারের ভাই উত্তম হালদার বলেন, ‘আমার ভাই মনোতোষ হালদার পূজায় ডেকোরেটরের কাজে গিয়ে পানি জাতীয় কিছু খেয়েছিল। যার কারণে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এরপরে এখানে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় গত শনিবার তার মৃত্যু হয়।’
রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিম চরণ বাগচী বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় সমবয়সী চার-পাঁচজন তরুণ তরল জাতীয় কিছু একটা পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরো একজন নিখোঁজ আছেন বলে শুনেছি, তবে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. রিয়াদ মাহামুদ বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের কেউ জানায়নি। আমরাও এ বিষয়ে অবগত নই। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন