প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপীয় ফুটবলে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) একসময় ছিল টাকার ঝনঝনানি এবং তারকা কেনার মহোৎসবের প্রতীক। কাতারি অর্থায়নের পর থেকে তারা দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে নেইমার, এমবাপ্পে, মেসি, জালাতানসহ অনেক তারকাকে।
হাজার হাজার কোটি টাকা উড়িয়ে তারা ‘বিগ স্পেন্ডার’ তকমা অর্জন করেছিল। অনেকেই আজকের ফুটবলের অস্থির দলবদলের জন্য প্যারিসের এই ক্লাবটিকে দায়ী করেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। সেই বাজে খরুচে তকমা ঝেড়ে ফেলে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা এখন খেলোয়াড় বিক্রির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্লাবের তালিকায় পিএসজি শীর্ষে রয়েছে। এই উইন্ডোতে তাদের মোট রাজস্ব ৪০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৬৪ মিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে, যা অ্যাস্টন ভিলা কিংবা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে অনেক বেশি।
সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম এমবায়ে, যাকে দলবদলের শেষ দিনে অ্যাস্টন ভিলার কাছে বিক্রি করেছে পিএসজি। নিজেদের একাডেমির ১৮ বছর বয়সী তরুণ এই ফরোয়ার্ডের প্যাকেজ মূল্য ৬০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
এ মৌসুমের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ফ্রান্সের তারকা ব্রাডলি বারকোলাকে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে লিভারপুলের কাছে বিক্রি করেছে পিএসজি।
এছাড়া, মূল একাদশে নিয়মিত না থাকা রোহাম কামারা, লি কাং-ইন, র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি এবং গনসালো রামোসকেও ছেড়ে দিয়েছে প্যারিসের দলটি।
২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপের পাড়ি জমানোর পর কোচ লুইস এনরিকে ক্লাবের দর্শনে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। সুপারস্টারনির্ভর ফুটবল বাদ দিয়ে তিনি তরুণ ও ক্ষুধার্ত প্রতিভাদের ওপর জোর দেন। এই স্ট্র্যাটেজি মাঠে এবং ক্লাবের ব্যাংক ব্যালেন্সে সাফল্য এনে দিয়েছে।
টানা দুইবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জেতার পাশাপাশি এনরিকে ক্লাবের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছেন।
এই ট্রান্সফার উইন্ডোতে পিএসজি ফেরান তোরেস, ম্যাগনেস আকলিউচে, মিকা গডটস, লুকাস দিনিয়ে এবং আলেসান্দ্রো লঙ্গোনিকে দলে ভিড়িয়েছে ২১০ মিলিয়ন ইউরোরও কম খরচে। অর্থাৎ কেনাবেচার পার্থক্য হিসাব করলে পিএসজির পকেটে নিট লাভ প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, প্রথমে বারতি দামে তারকাদের কিনে বাজার অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি নিজেদের ক্লাবের ফেইস ভ্যালু বাড়িয়েছে খেলাইফির পিএসজি। পরে সেই বাজারেই নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ খুঁজে বের করেছে দলটি। তাদের নিখুঁত পরিকল্পনার সাফল্যই এখন তারা উপভোগ করছে।
২০১১ সালে কাতারি গ্রুপ কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পিএসজির রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ৯ গুণ। ২০২৪-২৫ মৌসুমে তারা রেকর্ড ৮৩৭ মিলিয়ন ইউরোর রাজস্ব আয় করেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন