প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে মিয়ানমারের শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মালয়েশিয়া সফরের উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা প্রদান করা হয়। এ সময় রয়্যাল মালয়েশিয়ান রেঞ্জার রেজিমেন্টের (১ আরআরডি) প্রথম ব্যাটালিয়নের সদস্যরা গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
পরে আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকটি প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী হয় এবং দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ ও উদ্বেগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের শরণার্থীদের বিষয়টি। দুই নেতা বিশেষ করে জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, "মিয়ানমারের শরণার্থী সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং এবং মিয়ানমারের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও দরকষাকষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাংককে গত বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে তার আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং এবারের বৈঠককে তিনি সেই সংলাপের ধারাবাহিকতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে সরাসরি আলোচনার সুযোগ সীমিত রাখার অতীত পদ্ধতিগুলো কোনো কার্যকর ফল বয়ে আনেনি।" তিনি বলেন, "বরং কয়েক দশক ধরে চলমান শরণার্থী সংকট আরও জটিল হয়েছে এবং তা মালয়েশিয়ার জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ তৈরি করছে।"
তিনি যোগ করেন, "পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে এখন একটি বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।"
আনোয়ার ইব্রাহিমের মতে, দীর্ঘদিনের এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনার বিকল্প নেই। আলোচনা মাধ্যমে এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, যা শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার স্বার্থ ও উদ্বেগকেও বিবেচনায় নেয়।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের বিভিন্ন দিকও আলোচনায় এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন