প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিমানবন্দরে কার্গো সংশ্লিষ্ট পণ্য দ্রুত খালাসের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার দিকে অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ এবং ওষুধের মতো সংবেদনশীল পণ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলেছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা নিরসনের জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ নিয়ে আয়োজন করা আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রযুক্তি ব্যবহারে অনুসরণকারী নয়, বরং নেতৃত্বের অবস্থানে আসতে চাই। দ্রুত কার্গো পণ্য খালাসের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সহজ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি দ্রুত অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
সভা চলাকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো গঠন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কাস্টমসের মূল দায়িত্ব হল আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র ও শুল্কসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা। ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা কাস্টমসের মূল দায়িত্ব নয়।
তিনি বলেন, উপরোক্ত বিষয়গুলি নিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেওয়া হলে, কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান অত্যন্ত জরুরি। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত না হলেও, দেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে এটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই কারণে, সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
সভায় একটি অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য সাতটি স্থানের এবং একটি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, বিমানবন্দরে ওষুধ আমদানি-রপ্তানি দ্রুত করতে কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নির্দেশিকা তৈরির বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়া, কার্গো পণ্য আমদানির নোটিশ দ্রুত আমদানিকারকের কাছে পাঠানো এবং বিমানবন্দরে আমদানিকৃত পণ্য সহজে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার জন্য এআইভিত্তিক মডেল তৈরির প্রস্তাবও সভায় আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন