প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমোটিভ ও কোচ (ক্যারেজ) সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহের মাধ্যমে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সরকারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে রেলওয়েকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বর্তমান রেলওয়ের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো লোকোমোটিভ ও ক্যারেজের ঘাটতি। এ কারণে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন রেললাইন নির্মাণ হলেও পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কোচের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠার জন্য নতুন লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ভারত থেকে প্রায় ২০০টি ব্রডগেজ কোচ ও লোকোমোটিভ আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিটারগেজ অঞ্চলে এখনও বড় ধরনের চাপ রয়েছে এবং মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে যাত্রীসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব হবে না।
প্রতিমন্ত্রী আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের আশাপ্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন রেললাইন নির্মাণের সঙ্গে সমন্বয় করেই লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ করা হবে, যাতে রেলপথ চালুর সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা যায়।
নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া নতুন রেললাইন প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের জেলার মধ্যে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমে আসবে।
রাজধানী ঢাকার সাথে আশপাশের জেলা রেল যোগাযোগ জোরদারের জন্য নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ভাঙ্গা এলাকায় কমিউটার ট্রেন সার্ভিস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী পূর্বে আমদানিকৃত ডেমু ট্রেনগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহারের বিষয়েও নতুন চিন্তা করছে সরকার। এক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এগুলো সচল করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বর্তমানে বিভিন্ন স্টেশনকে বাণিজ্যিকভাবে উন্নত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানালেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশনে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে আধুনিক যাত্রীসেবা, উন্নত অপেক্ষাকক্ষ, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং স্টেশন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী ভবিষ্যতে নতুন লোকোমোটিভ ও কোচে যাত্রীদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা চালুর বিষয়েও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ও অবকাঠামো ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে তিনি জানান, দেশের রেল লেভেল ক্রসিং আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং যানজট কমাতে রেলক্রসিংগুলোতে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে পুরো রেল নেটওয়ার্ককে ধীরে ধীরে ব্রডগেজে রূপান্তর করা, যেখানে প্রয়োজন হলে ডুয়েল গেজ রাখা হবে। এটি পরিচালন ব্যয় কমাবে এবং রেল পরিচালনা আরও সহজ হবে।
আন্তঃনগর ট্রেনে দাঁড়িয়ে যাতায়াতের (স্ট্যান্ডিং টিকিট) বিষয়ে তিনি বলেছেন, সরকার এ ব্যবস্থাকে সমর্থন করে না তবে অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক সময় স্ট্যান্ডিং টিকিট দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একজন যাত্রী এসি চেয়ারে বসে যাবেন, আর তার মাথার ওপর আরেকজন দাঁড়িয়ে থাকবেন, এটি কোনোভাবে কাঙ্ক্ষিত নয়। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা এত বেশি যে অনেক সময় এ ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে নতুন লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর ফলে যাত্রীসেবা বিস্তৃত হবে এবং স্ট্যান্ডিং টিকিটের প্রয়োজনও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তিনি জানান, আমাদের লক্ষ্য শুধু নতুন রেললাইন নির্মাণ নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ, উন্নত স্টেশন, নিরাপদ অবকাঠামো এবং মানসম্মত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন