প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় চলে এসেছে টানা ১৪ দিন ধরে আটকে থাকা তিন যুবক। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তে তারা অনিশ্চয়তা ও মানবেতর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, ভন্দুরচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৬ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় তিনজন যুবক অবস্থান করছেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেই চেষ্টাকে থামিয়ে দেয়। এরপর থেকে ওই যুবকরা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝে কাঁটাতারের আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় আটকে রয়েছেন।
আটকে থাকা তিনজনের মধ্যে থাকা প্রথমজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬), দ্বিতীয়জন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১) এবং তৃতীয়জন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২)।
স্থানীয়ভাবে জানানো হয়, সীমান্তের ওই এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও বসতি নেই। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে তাদের প্রতিদিন দিন কাটছে। নিরাপদ আশ্রয় বা মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভন্দুরচর এলাকার বাসিন্দা আলতাফ আলী মন্তব্য করেছেন, ‘এ পরিস্থিতি শুধু ওই তিন যুবকের জন্যে নয়, সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের জন্যও একটি অস্বস্তিকর মানবিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। দুই বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে সতর্ক থাকলেও মাঝখানে আটকে থাকা তিনজনের দুর্ভোগ বাড়ছে।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা রাকিব জানিয়েছেন, ‘বৃষ্টি হলেই তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। কাপড়-চোপড় ভিজে যায়। রাতে ভেজা কাপড় পরেই থাকতে হয়।’
এ বিষয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
দুই সপ্তাহ ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা তিন যুবক কবে স্বজনদের কাছে ফিরতে পারবেন, সেই বিষয়ে এখনো কোনও সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখায় তাদের প্রতীক্ষা দীর্ঘতর হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন