প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে প্রাণঘাতী বোমা তৈরি করছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএল (আইসিস) এবং বোকো হারাম। এই তথ্যটি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিস্ফোরক গবেষণা এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক বিশ্বকে বদলে দেওয়া চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), মেটা এআই (Meta AI), ইলন মাস্কের গ্রক (Grok), গুগল জেমিনি (Gemini) এবং চীনা প্রযুক্তি ডিপসিকের (DeepSeek) মতো এআই টুলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা গার্ডরেল টপকে নিখুঁতভাবে বোমা বানানোর কৌশল আয়ত্ত করছে এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি।
এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বোকো হারাম ও আইএসের তাণ্ডব
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যান্টোনিয়া জুলিখের তথ্যমতে, নাইজেরিয়ার বোকো হারামের প্রাক্তন ২৭ জন সদস্যের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় উঠে আসা চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য:
বিশেষায়িত এআই সেল: আইএসআইডব্লিউএপি (ISWAP) এবং জেএস (JAS) নামক জঙ্গি গোষ্ঠী দুটি নিজস্ব ‘এআই সেল’ গঠন করেছে। ২০-২৫ জনের বিশেষজ্ঞ টিমে অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও বোমা প্রস্তুতকারকরা সরাসরি এআই-এর কাছে টেকনিক্যাল পরামর্শ নিচ্ছে।
সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান: শুধু প্রস্তুতপ্রণালী নয়, হাতেনাতে বোমা তৈরির সময় কোনো সমস্যায় পড়লে বা নির্দিষ্ট উপাদান কম থাকলে—এআই-কে সেটি বলে বিকল্প উপায় জেনে নিচ্ছে তারা।
‘জাস্ট আস্ক গ্রক’: ফ্রন্টলাইনে নতুন অস্ত্র চালানো থেকে শুরু করে ড্রোনকে বোমারু ড্রোনে রূপান্তর করার ক্ষেত্রেও এআই-এর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো অস্ত্র চালাতে সমস্যা হলে জঙ্গিরা একে অপরকে বলছে—“জাস্ট আস্ক গ্রক।”
‘জেলব্রেকিং’ বা গার্ডরেল বাইপাস: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আইএস অনুসারীরা ডার্ক ওয়েব ও বিভিন্ন ফোরামে শেয়ার করছে কীভাবে এআই-এর নিরাপত্তা বেষ্টনী (Jailbreak) বাইপাস করা যায়। তারা বিষয়টিকে গাড়ির ‘স্পিড লিমিটার’ খুলে ফেলার সাথে তুলনা করছে।
প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ
ওপেনএআই, মেটা, অ্যানথ্রপিক কিংবা এক্সএআই-এর মতো বিগ-টেক কোম্পানিগুলো দাবি করছে—সহিংসতা ও অস্ত্র তৈরিতে তাদের এআই ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ফিল্টার রয়েছে। তবে জঙ্গিরা এসব সেফটি মেকানিজম সহজেই ফাঁকি দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পর এআই প্রযুক্তি এখন বহু গুণ বেশি শক্তিশালী। এটি যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য তা ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন