প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ১০ মাস পর প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটক পরিবহনে যাত্রী গণনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড স্ক্যানিং হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পর্যটকরা ছেঁড়াদিয়ায় যাচ্ছেন।
শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে এমভি বারো আউলিয়ার পাশাপাশি এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ নামে দুটি জাহাজ চলাচল করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এদিন তিনটি জাহাজে ১ হাজার ৬১২ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএর হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ১ হাজার ৫৩০ এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে ১ হাজার ৫৫৪ জন।
শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাটে দায়িত্ব পালনকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ জনী সমকালকে জানান, ‘আমাদের হিসাবমতে, শুক্রবার ১ হাজার ৬১২ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্যুরিজম বোর্ডের ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড জাহাজে ওঠার সময় স্ক্যান না করায় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পর্যটক গণনা করা কঠিন। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড স্ক্যান করার জন্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন হবে।’
পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল এবং যাত্রী যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তদারকি কমিটির আহ্বায়ক কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার সমকালকে জানান, সেন্টমার্টিনের বিষয়ে সরকারের একাধিক নির্দেশনা পরিবর্তন হয়েছে। তবে তদারকি কমিটির বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি।
বিশেষ তদারকি কমিটির পূর্বের সিদ্ধান্ত বর্তমানে বহাল আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘সেন্টমার্টিন বিষয়ে আমরা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছি।’ শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।
যাতায়াত-নিষিদ্ধ এলাকায় পর্যটক
সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন আট বর্গকিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত দ্বীপটির দক্ষিণে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ রয়েছে। সেখানে পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে দিনে শত শত পর্যটক ঘুরতে যাচ্ছেন।
শুক্রবার সকাল ১০টায় ছেঁড়াদিয়ায় গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটকরা দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের স্তূপে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছেন।
দ্বীপে পর্যটকদের যেসব বিধিনিষেধ মানতে হবে
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়– এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।
প্রাণচাঞ্চল্য সেন্টমার্টিন দ্বীপে
দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসছেন। প্রথমবার সমুদ্র দেখতে এসে উচ্ছ্বসিত তামান্না রহমান বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার সমুদ্র দেখতে এসেছি। সেন্টমার্টিনের মতো সুন্দর একটি জায়গায় আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। এটি আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তার ওপর প্রথমবার দ্বীপে এসে ফুল উপহার পেয়ে আনন্দটা যেন আরও বেড়ে গেছে।’
ফারাহ খানম নামে আরেকজন বলেন, ‘এখানকার নীল সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। এই সুন্দর পরিবেশে অনেক ছবি তোলার ইচ্ছা আছে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিনে বেশি বেশি ছবি তুলব, যাতে এই সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে পারি।’
সেন্টমার্টিন দ্বীপের হোটেল-রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কেফায়েত উল্লাহ জানান, পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং নির্বিঘ্নে দ্বীপে চলাফেরা করতে পারেন, সে বিষয়ে তারা নজরদারি করছেন। পর্যটকরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন