প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’র মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন নতুন করে সর্বাত্মক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধ জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে তেহরানকে নতুন শর্তে দরকষাকষিতে বাধ্য করা মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘ কয়েক দশকের অর্থনৈতিক চাপ, অস্থিতিশীল অর্থনীতি এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ইরানকে কেবল অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেই কোনো চুক্তিতে আনা সম্ভব হবে কি না।
গত ১৭ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফার এই নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ৬০ দিনের এই সাময়িক বিরতিকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দুই দেশের উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী চালুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর স্থায়ী সমাধান খোঁজা। যদিও চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, স্থগিত তহবিল ফেরত দেওয়া এবং ইরান উপকূল থেকে মার্কিন সেনা হ্রাসের প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল, দুই পক্ষের মতপার্থক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত এই মেয়াদের মধ্যে স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। এরপরেই ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বের ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ নীতিতে ফিরে যাওয়ার সংকেত দিয়ে নতুন করে চরম অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকি দিয়েছে।
নতুন এই অর্থনৈতিক অভিযানের মূল স্তম্ভ হলো ইরানের জ্বালানি ও তেল বাণিজ্যের পাশাপাশি তার সামুদ্রিক বিমা, বিমান পরিষেবা এবং ব্যাংকিং খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা। বিশেষ করে চীনা স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে মার্কিন অর্থ দফতর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, কারণ ইরানের তেল রফতানির একটি বড় অংশই চীনে যায়। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আর্থিক সংকটে জর্জরিত এবং তাদের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের মুখে, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) অনুযায়ী, দেশটির বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে প্রায় ৬৯ শতাংশে ঠেকেছে এবং চলতি বছর তাদের অর্থনীতি ৬.১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এক নাগাড়ে বেড়ে চলেছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তবে সাবেক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তেহরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থা বা তাদের নীতি পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ইতিহাসে দেখা গেছে, আশির দশক থেকে ইরান নিজস্ব বিকল্প অর্থনীতি এবং 'ছায়ানৌবহর' তৈরি করে টিকে থাকার পথ খুঁজে নিয়েছে হতাশাজনক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়ে। অন্যদিকে, মার্কিন অর্থ দফতরের দাবি অনুযায়ী, এই ধরনের সর্বাত্মক অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ইরানকে বিশ্ব বাজার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন