প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ, উৎপাদন ও কর্মী ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে অতিথি অভ্যর্থনা এবং তথ্যের নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়া লিমিটেড চারটি নতুন প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে এআইনির্ভর।
নতুন সমাধানগুলোর মধ্যে রয়েছে এআইভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘বিজনেস ব্রেইন’, এআই রিসেপশনিস্ট ‘জয়া’, নিজস্ব এআই এজেন্ট ‘বেটো’ এবং ইনফারেন্স ক্লাউড ‘কিউসর’। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা, অতিথি অভ্যর্থনা, তথ্য সংরক্ষণ ও এআই মডেল পরিচালনার কাজ একই প্রযুক্তিগত পরিসরে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ নতুন প্রযুক্তিগুলো প্রদর্শন করা হয়, যা বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করে।
বিটোপিয়ার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন চারটি সমাধানের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো এবং ব্যবস্থাপনার একাধিক কাজ একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় কমানো, কাজের গতি বাড়ানো এবং তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন সমাধানগুলোর মধ্যে ‘বিজনেস ব্রেইন’ মূলত এআই এজেন্টনির্ভর একটি এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) ব্যবস্থা। সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়, উৎপাদন, ক্রয়, সরবরাহব্যবস্থা, হিসাব, মজুত ও কর্মী ব্যবস্থাপনার তথ্য বিভিন্ন বিভাগে আলাদাভাবে সংরক্ষিত থাকে। বিজনেস ব্রেইনের মাধ্যমে এসব তথ্য একটি প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা যাবে। প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত তথ্য পর্যালোচনা করে এআই এজেন্ট বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, সম্ভাব্য সমস্যা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যর্থনা ও অতিথি ব্যবস্থাপনার কাজ সহজ করতে আনা হয়েছে ‘জয়া’ নামের এআই রিসেপশনিস্ট। এটি প্রতিষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান, অতিথি নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করতে সক্ষম। ফলে অভ্যর্থনাকেন্দ্রে নিয়মিত যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় কিংবা অতিথিদের প্রাথমিক তথ্য ও সেবা দিতে হয়, সেসব কাজ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। করপোরেট অফিসের পাশাপাশি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্যাংক, হোটেল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি দপ্তরেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিটোপিয়া।
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তৈরি করা হয়েছে নিজস্ব এআই এজেন্ট ‘বেটো’। বিটোপিয়ার দাবি, এটি ঢাকায় স্থাপিত নির্দিষ্ট গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) অবকাঠামোয় পরিচালিত হয়। ফলে ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেশের ভেতরেই সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্লাউড বা সার্ভারেও এ ধরনের এআই এজেন্ট পরিচালনা করা যাবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোনো গ্রাহকের সরবরাহ করা তথ্য অন্য গ্রাহকের এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হয় না। এতে সংবেদনশীল ব্যবসায়িক তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে এআই মডেল পরিচালনার জন্য উন্মোচন করা হয়েছে ‘কিউসর’ নামের ইনফারেন্স ক্লাউড। এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সফটওয়্যার ডেভেলপারকে নিজস্ব জিপিইউ সার্ভার স্থাপন না করেই ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামোয় ওপেন সোর্স এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী খরচ নির্ধারণের পাশাপাশি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মডেল ব্যবহারের পরিমাণ ও ব্যয়ের হিসাব দেখা যাবে। এপিআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন, চ্যাটবট ও এআই এজেন্টের সঙ্গেও এটি যুক্ত করা সম্ভব। বিটোপিয়ার তথ্য অনুযায়ী, কিউসরের সার্ভারও দেশের ভেতরে স্থাপিত।
প্রযুক্তি খাতে প্রায় ১৪ বছর ধরে কাজ করছে বিটোপিয়া লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং এআইভিত্তিক নতুন সমাধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি খাতে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন