প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর অজুফিয়া আলিম মাদ্রাসার সহ-সুপার মোঃ ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার প্রায় এক বছর পর পুনরায় প্রতিষ্ঠানে ফেরার চেষ্টা এবং সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রমাণের পক্ষে মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় তার নামের পাশে ‘ইস্তফা’ উল্লেখ থাকা এবং পরবর্তী সময়ের ক্লাস রুটিনে তার নাম না থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মোঃ ইকবাল হোসেন ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। এরপর মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান ও সভাপতি মোহাম্মদ শরীফ হোসেনের স্বাক্ষরে তার ইনডেক্স বাতিলের (ডিলিট) আবেদন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। পদত্যাগের আবেদন ও ইনডেক্স বাতিলের প্রক্রিয়া চলার পর থেকে তিনি আর নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট নথিতে হাজিরার খাতায় ইকবাল হোসেনের নামসংলগ্ন স্থানে ‘ইস্তফা’ লেখা রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ের ক্লাস রুটিনেও তার নাম পাওয়া যায়নি। ফলে দায়িত্বে না থাকা এবং রুটিনে নাম না থাকার পরও কীভাবে তিনি পুনরায় প্রতিষ্ঠানে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং বেতন-ভাতা উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, মোঃ ইকবাল হোসেনের মূল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মহিউদ্দিনের করা একটি তদন্ত প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের নিয়োগসংক্রান্ত রেজুলেশনে অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হয়। তদন্তকালে অভিযুক্ত সহ-সুপারকে নিয়োগসংক্রান্ত মূল নথিপত্রসহ হাজির হতে বলা হলেও তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এমনকি মাদ্রাসা অফিসের সংশ্লিষ্ট নথিপত্রেও তার নিয়োগের প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এবং পদত্যাগের পর পুনরায় প্রতিষ্ঠানে ফেরার চেষ্টার বিষয়টি সমন্বিতভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। দায়িত্ব পালন না করে কোনো সরকারি অর্থ বা বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই করে তার নিয়োগের বৈধতা, পদত্যাগের কার্যকারিতা এবং ইনডেক্সের বর্তমান অবস্থা পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তারা দাবি জানান।
ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আরবি মো: হেলাল উদ্দিন জানান," সহসুপার পদত্যাগ করার পর থেকে আমাদের হাজিরা খাতায় তার নামস্হানে ইস্তেফা লেখা রয়েছে এবং ক্লাস রুটিনে তার কোন নামও নেই। "
এওয়াজপুর অজুফিয়া আলিম মাদরাসার পদত্যাগকৃত সহসুপার মো: ইকবাল হোসাইন বলেন, " আমি নিজের ইচ্ছে পদত্যাগ করিনি,অসুস্থকালীন প্রতিষ্ঠান প্রধান ও দাতা সদস্য ছালাম জমাদার আমাকে জোর পূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করেছে। "
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসাইন বলেন,"সহসুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন নিজে পদত্যাগ করেছেন।তার পদত্যাগের আবেদনটি ম্যানেজিং কমিটির সভায় গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত তালিকা থেকে তার নাম কর্তনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করা হয়েছে। "
এব্যাপারে বক্তব্য নিতে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজকে ফোন দেওয়া হয়েছে। রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গেছে, একটি মহল ওই সহসুপারের বেতন পাশ করাতে জোর তদবির করেছে। তবে এরিপোট লেখা পর্যন্ত তার বেতন পাশ হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন