প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি গোপন পরিকল্পনা সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল গত বেশ কয়েক বছর ধরে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে গোপনে লালন করে আসছিল, যাতে যুদ্ধের পরবর্তী সময়সমূহে তাকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তার ক্ষমতার সময় আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলবিরোধী কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন, তবে তার রাজনৈতিক আদর্শের পরিবর্তন এবং ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে দূরত্বের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিল তেল আবিব।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোসাদের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আহমাদিনেজাদকে বিদেশি বিভিন্ন সম্মেলনে গোপনে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। ইসরায়েল তার ভ্রমণের খরচ ও আবাসন বাবদ অর্থ সহায়তাও দিত। বুদাপেস্টে জলবায়ু সম্মেলনের আড়ালে মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলেও জানানো হয়েছে।
আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি ক্ষমতার লোভের কারণে ইসরায়েলের এই গোপন পরিকল্পনায় আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। কারণ, তিনি মনে করতেন বিদেশি সহায়তায় ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন মাধ্যমে তার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব।
ঘটনাটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মোড় নেয়। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের শুরুতে তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে একটি ইসরায়েলি বিমান হামলা ঘটেছিল। ওই হামলায় তার দেহরক্ষীদের ভবন এবং সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর কালো রঙের পিউজো গাড়িতে করে মোসাদ এজেন্টরা তাকে উদ্ধার করে একটি গোপন আস্তানায় স্থানান্তর করে। উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি নজরদারি থেকে মুক্ত করে একটি বিকল্প সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা। তবে উদ্ধার প্রক্রিয়া বিশৃঙ্খলা ও পরিস্থিতির কারণে আহমাদিনেজাদ এই পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, বর্তমানে আহমাদিনेजাদকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা গৃহবন্দি করে রেখেছে। গত সপ্তাহে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় তাকে জনসম্মুখে দেখা গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের বিষয়টি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এই ব্যর্থ অভিযানটি ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েলের একটি বৃহৎ কৌশলের অংশ, যাতে ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সশস্ত্র করা এবং ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে এই বিষয়ে ইরান কিংবা ইসরায়েল কেউ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন