প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে অতিরিক্ত চর্বি ও চিনি সমৃদ্ধ খাবার বিক্রি সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন নিয়মের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুসারে, স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে এসব খাবারের বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বাড়তে থাকায় জাংক ফুডের ব্যবহার হ্রাস করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
যদি প্রস্তাবটি কার্যকর হয়, তাহলে ভারতের প্রায় ১৫ লাখ স্কুলের আশপাশে অবস্থিত ছোট দোকান, রেস্তোরাঁ ও খাবারের স্টলগুলো এর আওতায় পড়বে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হওয়া চিনিযুক্ত কোমলপানীয়, অতিরিক্ত লবণযুক্ত চিপস, তেলে ভাজা সমুচা, পিৎজা ও বার্গারের মতো খাবারের বিক্রিতে বিধিনিষেধ আসতে পারে।
বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার বাড়তে থাকায় অস্বাস্থ্যকর ও উচ্চমাত্রায় চর্বি-চিনি সমৃদ্ধ খাবারের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগকে জোরদার করা হচ্ছে।
স্কুলের আশপাশে জাঙ্ক ফুড বিক্রিতে বিধিনিষেধের প্রস্তাব ভারতের বড় বহুজাতিক খাদ্য ও পানীয় কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পেপসিকো, কোকা-কোলা, মন্ডলেজ ও নেসলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে উচ্চমাত্রায় চর্বি, লবণ ও চিনি সমৃদ্ধ (এইচএফএসএস) খাবারে লাল সতর্কীকরণ লেবেল ব্যবহারের প্রস্তাবিত নিয়মের মুখোমুখি হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে খাদ্যনিরাপত্তা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি থাকা চিলি ও মেক্সিকোর মতো দেশের সঙ্গে ভারতের নীতিও আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
স্কুলের আশপাশের দোকান ও মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ব ভারতের ভুবনেশ্বর শহরের প্রায় এক ডজন দোকানদার বলেছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাদের বিক্রি এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি কমে যেতে পারে। ভুবনেশ্বরের একটি দোকানে ১৫ বছর বয়সী প্রিয়াংশু পালাই স্কুলে যাওয়ার পথে পেপসিকোর জনপ্রিয় ‘আঙ্কেল চিপস’-এর দুটি প্যাকেট কেনে। ব্যাগে চিপস রাখার সময় সে বলে, ‘টিফিনের সময় এগুলো খাব।’ তার মায়ের তৈরি ভাত ও ডালের তুলনায় চিপসই তার বেশি পছন্দ বলে জানায় সে।
ভারত শিশুদের মধ্যে জাংক ফুড খাওয়ার অভ্যাস কমাতে চায়। এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটির (এফএসএসএআই) প্রধান নির্বাহী রাজিত পুনহানি। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের ছোটবেলা থেকেই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস থেকে দূরে রাখা। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিশুদের এসব খাবার খাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’
তবে পুনহানি উল্লেখ করেন, নতুন নিয়মের কারণে ব্যবসায়ীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। কারণ, দোকানিরা উচ্চমাত্রায় চর্বি, লবণ ও চিনি নেই—এমন খাবার বিক্রি করতে পারবেন। তার মতে, নতুন বিধিমালার অন্যতম লক্ষ্য হলো খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পণ্যের উপাদান ও রেসিপি পরিবর্তনে উৎসাহিত করা।
এই আইন প্রথম প্রস্তাব করা হয় ২০২০ সালে। তবে এটি কার্যকর করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। দেশজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ গত আগস্টে খাবারে চর্বি, লবণ ও চিনির সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব প্রকাশ করে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত মাত্রার বেশি চর্বি, লবণ ও চিনি থাকা খাবার স্কুলের ভেতরে ও আশপাশে বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ অক্টোবর।
ভারতে বাড়ছে শিশুদের স্থূলতা
ভারতে লে’স চিপস, ক্যাডবেরি চকলেট ও ম্যাগি নুডলসের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এর সঙ্গে বাড়ছে শিশুদের অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতাও। ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী অতিরিক্ত ওজনের ভারতীয় শিশুর সংখ্যা ২০১৫ সালে ছিল ২ কোটি ৮০ লাখ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪ কোটি ১০ লাখ হয়েছে। ২০৪০ সালে এ সংখ্যা ৫ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছাতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় আইনে স্কুলের আশপাশের দোকানে শিশুদের কাছে উচ্চ চর্বি, লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার বিক্রি ও বিজ্ঞাপনে বিধিনিষেধের প্রস্তাব রয়েছে। তবে মহারাষ্ট্রে কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। রাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা কমিশনার তুকারাম মুন্ধে রয়টার্সকে জানান, স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে কোনো দোকানে এসব পণ্য রাখা যাবে না। রয়টার্সের দেখা রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে থাকা ১৩৩টি দোকানে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছেন পরিদর্শকেরা। এর মধ্যে ৫১টি দোকানের ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাংক ফুড নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
ভারতে স্কুলের আশপাশে জাংক ফুড বিক্রিতে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক স্কুল বাজারের কাছে হওয়ায় নতুন নিয়ম মানা কঠিন হবে এবং এতে ব্যবসা ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পেপসিকো ও নেসলেসহ বড় কম্পানিগুলো জানিয়েছে, স্কুলে খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে তারা নিজেদের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে। এদিকে চিলি ও মেক্সিকোর মতো কয়েকটি দেশে স্কুলের আশপাশে জাঙ্ক ফুড বিক্রিতে ইতিমধ্যে কঠোর নিয়ম রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন