প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনপুর ইউনিয়নের একবরপুর গ্রামের আবুল হাসান (সুজন), তার স্ত্রী মোসা. খাদিজা খুশি এবং আবুল হায়াত শাহীনের বিরুদ্ধে ব্যবসা ও ফ্ল্যাট বিক্রির নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য ও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে, তারা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রলোভন ও ফ্ল্যাট বিক্রির আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুত পণ্য বা ফ্ল্যাট রসিদ পাননি। টাকা ফেরত চাইলে নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তাদের রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কয়েকজন আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
মামলার অভিযোগে ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্তরা ভারত থেকে বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাসের যন্ত্রাংশ এলসির মাধ্যমে আমদানি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ নিয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পরও যন্ত্রাংশ সরবরাহ হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজশাহীতে ফ্ল্যাট বিক্রির আশ্বাস দিয়ে যথাযথ চুক্তিপত্র ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। পরে টাকা ফেরতের জন্য দেওয়া চেক ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেগুলো ডিজঅনার হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
নিজস্ব অভিযোগে আরেক ভুক্তভোগী এমদাদ জানান, রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তার মোড়ে অবস্থিত মদিনা টাওয়ার প্রকল্পের ডেভেলপার পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তাদের প্রতিশ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা, ফ্ল্যাট ও বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেও টাকা ফেরত না পেয়ে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তারা আইনগত সহায়তার জন্য পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযোগের তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এ ছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধেও আদালতে ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত আবুল হাসান (সুজন), মোসা. খাদিজা খুশি ও আবুল হায়াত শাহীনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন