প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনস নিজ দলের প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবারের নির্বাচনের দুদিন আগে তাঁর এই ঘোষণা ডেমোক্র্যাট শিবিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) স্টিভেনস গির্জায় রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি বলেছেন, "আমি আবদুলের প্রচারশিবিরের অংশ নই। মিশিগানের মানুষ হিসেবে আমাদের পরিচয় ঘৃণা নয়। আমাদের ডেমোক্র্যাট মনোনীত প্রার্থীর কাছ থেকে এখন যে আচরণ দেখা যাচ্ছে, সেটিও আমাদের পরিচয় নয়। এ কারণেই আমি মাইক রজার্সকে সমর্থন দিচ্ছি।"
ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে এল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই স্টিভেনস এবং এল-সাইয়েদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। স্টিভেনসকে মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত করা হয়, আর এল-সাইয়েদ বামঘেঁষা অবস্থানের অধিকারী।
বিতর্কের সাম্প্রতিক সূত্র হিসেবে একটি প্রচারবিজ্ঞাপন উঠে এসেছে। উদারপন্থী একটি বাইরের সংগঠনের ওই বিজ্ঞাপনে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের সঙ্গে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। এল-সাইয়েদ বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করলেও এর বিষয়বস্তুর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।
রোববার একটি অনুষ্ঠানে এল-সাইয়েদের সঙ্গে স্টিভেনসের উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু এল-সাইয়েদ তাঁকে সেখানে না আসতে বলেছিলেন। পরে স্টিভেনস রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সের সঙ্গে গির্জার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "এল-সাইয়েদ আমাকে নিজের প্রচারশিবিরে চাননি।"
স্টিভেনসের সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সাইয়েদ বলেন, "আমি মিশিগানের মানুষের সমস্যাগুলো নিয়ে মনোযোগ দিচ্ছি। দিন শেষে আমি হ্যালি স্টিভেনসকে নিয়ে ভাবছি না। এসবের কোনো গুরুত্ব নেই।"
স্টিভেনসের সিদ্ধান্তের পর তাঁর নির্বাচনী দলের বেশ কয়েকজন কর্মী পদত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। স্টিভেনস জানান, "ওয়াশিংটনে আমার অসাধারণ একটি দল রয়েছে এবং কর্মীরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে স্বাধীন।"
রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স স্টিভেনসের সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত বলেছেন। আইওয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্টিভেনসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "স্টিভেনসের সঙ্গে আমার পরিচয় বা কখনো সাক্ষাৎ হয়নি, তবে তিনি এমন কথা বলেছেন, যা বলার সাহস অনেকের নেই।" ট্রাম্প মন্তব্য করেন, স্টিভেনস রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দিলে তিনি খুশি হবেন।
ডেমোক্র্যাট নেতারা স্টিভেনসের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেল বলেন, "তার এ সিদ্ধান্তে বোঝা যায়, তিনি যেসব মূল্যবোধের কথা বলেন, সেগুলো থেকে সরে গেছেন।" তিনি দলকে বিভক্ত করা এবং নির্বাচনী অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করার কথাও জানান।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার স্টিভেনসের সিদ্ধান্তকে ‘ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ডেট্রয়েটের কয়েকজন ডেমোক্র্যাট ভোটারও বিবিসিকে বলেছেন, রজার্সকে সমর্থন দেওয়ায় তাঁরা হতাশ। তবে রজার্সের কয়েকজন সমর্থকের ধারণা, স্টিভেনসের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফলে তেমন প্রভাব ফেলবে না।
মিশিগানের সিনেট আসনটি বর্তমানে একজন অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটরের দখলে রয়েছে। ১৯৯৪ সালের পর এই আসনে কোনো রিপাবলিকান নির্বাচিত হননি। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিশিগানে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। ২০২০ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে জো বাইডেন এবং ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হন।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি আসন বাড়াতে হবে। মিশিগানের আসনটি হারালে তাদের জন্য লক্ষ্য পূরণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে; তখন পাঁচটি আসন বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।
ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সাইয়েদ মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান। ওয়াশিংটনের রাজনীতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের অসন্তোষকে তিনি নিজের প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, স্টিভেনস মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত এবং দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ে মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারের মতো নেতাদের সমর্থন পেয়েছিলেন।
স্টিভেনস ও এল-সাইয়েদের বিরোধ নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও এই বিরোধ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন