প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রিমিয়ার লিগের টেবিলের একেবারে তলানিতে নেমে গেছে টটেনহাম হটস্পার, টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের পর। তবে কোচ রবের্তো ডি জার্বি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলে কোনো ‘আতঙ্ক’ নেই এবং তিনি নিজেও ‘ক্ষুব্ধ নন’।
কোচের বক্তব্য যাই হোক, সমর্থকদের জন্য এটি একটি পুরোনো ও হতাশাজনক গল্পের পুনরাবৃত্তি বলেই মনে হচ্ছে।
দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটের ব্যবধানে অ্যান্থনি এল্যাঙ্গা ও ইয়োয়ানে উইসার জোড়া গোলে নিউক্যাসল টটেনহামের দুর্গ গুঁড়িয়ে ২-০ ব্যবধানের জয় তুলে নেয়। দলের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগেই গ্যালারি ছাড়তে শুরু করেন হাজার হাজার স্পার্স সমর্থক। তাদের ক্ষুব্ধ হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, কারণ ক্লাবটি নিজেদের দুর্দান্ত স্টেডিয়ামে খেলা শেষ ২৩টি লিগ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩টিতে জয়লাভ করেছে।
গত দুটি আসরে (২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬) কোনোমতে ১৭তম স্থানে থেকে অবনমন এড়ানো দলটি এবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হয়েছিল। ট্রান্সফার উইন্ডোতে ৬৩৬৬ কোটি টাকা খরচ করার পর ভক্তরা অন্তত ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন, প্রথম দুই ম্যাচের দুটিই হার, গোল শূন্য এবং ২০টি দলের মধ্যে পয়েন্ট টেবিলের একদম তলানিতে (২০তম) অবস্থান করছে স্পার্স।
ম্যাচ শেষে ডি জার্বি মন্তব্য করেন, ‘ডিফেন্সে আমাদের উন্নতির জায়গা রয়েছে, তবে আজকের ফলাফলটি আমাদের জন্য অন্যায় ছিল।
আমরা প্রথম গোলটি খাওয়ার আগ পর্যন্ত নিউক্যাসলের চেয়ে ভালো খেলেছি। ভক্তদের জন্য খারাপ লাগছে, তবে আমরা একটি দুর্দান্ত দল হিসেবে গড়ে ওঠার কাজ করছি। দল গুছিয়ে উঠলে গত দুই মৌসুমের চিত্র বদলে যাবে।’
অবনমন এড়ানোর পর এবার বড় বড় তারকা দলে ভিড়িয়েছিল টটেনহাম। কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর এবার নিউক্যাসলের কাছেও ধরাশায়ী হতে হলো। যদিও ম্যাচে ১৭টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্য রাখলেও গোল পায়নি স্পার্স, অন্যদিকে নিউক্যাসল তাদের লক্ষ্য রাখা দুটি শটকেই গোলে পরিণত করে।
সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক জো হার্ট ক্লাবের বর্তমান অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুই ম্যাচ দেখলেই বোঝা যায় নিউক্যাসলের কোচ দল নিয়ে কী করতে চান, কিন্তু টটেনহামের ক্ষেত্রে সেই স্পষ্টতা নেই। নতুন খেলোয়াড়দের দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে হবে, তা না হলে সংকট আরও বাড়বে।’ আরেক সাবেক গোলরক্ষক রব গ্রিন জানান, গত মৌসুমের পুরোনো সমস্যাগুলো এখনও রয়ে গেছে এবং সমর্থকদের আস্থা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
আগামী মঙ্গলবার ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে ডি জার্বি ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি আরো একজন নতুন খেলোয়াড় চান। একই সাথে রিচার্লিসন বা সারের দল ছাড়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, অর্থনৈতিক সুবিধা আনলে যে কেউ ক্লাব ছাড়তে পারে।
মার্চের শেষদিকে দায়িত্ব নেওয়া ডি জার্বি সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘১০ দিনে বা কেবল ট্রান্সফার মার্কেট দিয়ে গত দুই বছরের চিত্র পাল্টানো অসম্ভব। আমাদের মাঠে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। শান্ত থেকে উন্নতির দিকে নজর দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন