প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেঘের মাদল বাজিয়ে জ্যৈষ্ঠের রুদ্ররূপের অবসান ঘটেছে। আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি অবশেষে তপ্ত ধরণীর বুক চিরে নামলো। আর এই বৃষ্টির মধ্যে মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছে।
তীব্র খরা ও হাঁসফাঁস করা দাবদাহের পর আষাঢ়ের এই প্রথম বর্ষণ নগর জীবনকে এক নিমেষে স্নিগ্ধ ও শীতল করে দিয়েছে। প্রকৃতির এই রূপ বরিশালের প্রতিটি স্থানকে স্পর্শ করেছে।
বর্ষার চিরচেনা রূপকে বরণ করে নিতে জীবনানন্দের দাসের রূপসী বরিশাল এক অন্যরকম উৎসবে মেতে উঠেছিল।
সোমবার (১৫ জুন) রাতের মায়াবী আয়োজন ছিল নগরীর নতুন বাজার এলাকার বনলতা বুক ক্যাফেতে। আষাঢ়ের প্রথম দিনটিকে স্বাগত জানিয়ে বর্ষা বরণ অনুষ্ঠানে তরুণীরা নীল শাড়িতে সাজে সজ্জিত হয়ে হাজির হয়েছেন। বৃষ্টি নিয়ে স্মৃতি মনে করে তারা আনন্দে মেতে উঠেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান নাবিলা কদম ফুল গুঁজে স্মৃতিকাতর হয়ে জানান, 'কংক্রিটের এই ব্যস্ত শহরে এখন আর আগের মতো বৃষ্টি উপভোগ করা হয় না। কিন্তু আজ নীল শাড়ি পরে, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় এসে মনে হচ্ছে, শৈশবের হারানো দিনগুলো আবার ফিরে পেয়েছি। রিমঝিম বৃষ্টির শব্দ ও কদম ফুলের সুবাস- সব মিলে এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে।'
বর্ষা বরণ উৎসবে অংশ নেওয়া আরেক তরুণী নুসরাত জাহান মিম তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, 'আষাঢ়ের প্রথম দিন মানে আমার কাছে এক টুকরো নীল আকাশ ও কদম ফুল। ক্যাফের মায়াবী পরিবেশে এসে মনে হচ্ছে মেঘের দেশে হারিয়ে গেছি। শৈশবে বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার যে আনন্দ, আজ এই উৎসবের মাধ্যমে সেই নস্টালজিয়া আবার নতুন করে ছুঁয়ে গেল।'
বর্ষার চিরন্তন রূপকে ভালোবেসে এই আড্ডায় যোগ দিয়েছিলেন পেশাজীবী নারী ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি জানিয়েছেন, 'কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে আমরা উৎসবের আনন্দগুলো ভুলেই যাই। কিন্তু এই চমৎকার আয়োজনটি আবার আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির কাছে ফিরিয়ে এনেছে। বৃষ্টি যেমন তপ্ত ধরণীকে শীতল করে, তেমনি আমাদের মনেও এক অদ্ভুত প্রশান্তি বয়ে এনেছে।'
জলবায়ুর হিসাব-নিকেশ যাই হোক না কেন, আষাঢ়ের প্রথম দিনে বাঙালির মেঘ-পিওনেরা যে কখনো পাথ ভুলো হয় না, সেটিই প্রমাণিত হলো এই নান্দনিক উৎসবে। ইট-পাথরের এই ব্যস্ত শহরে নতুন প্রজন্মের কাছে বর্ষার অনুভূতি ও বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন রূপকে পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নিয়েছে।
বর্ষা বরণ অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ও বনলতা বুক ক্যাফের পরিচালক জাহিদ আবদুল্লাহ রাহাত জানিয়েছেন, 'বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের একটি সুন্দর ও রোমান্টিক অনুষঙ্গ হলো বর্ষা উৎসব। আধুনিকতার ভিড়ে ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের ঋতুবৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আর আষাঢ়-শ্রাবণের চিরন্তন রূপ ও সাংস্কৃতিক গভীরতা বুঝতে পারেনা।'
তিনি আরো বলেন, 'আমরা চেয়েছি এই ইট-পাথরের নগরে তরুণ ও তরুণীদের প্রকৃতির ছোঁয়া দিতে, তাদের শেকড়ের সন্ধান দিতে। তরুণদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও তরুণীদের নীল শাড়ি প্রমাণ দেয়, বাঙালি তার সংস্কৃতিকে কত গভীরভাবে ভালোবাসে।'
বর্ষা বরণ অনুষ্ঠানে বরিশালের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, লেখক, গবেষক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন