প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপাল স্মরণকালের একটি ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। আকস্মিকভাবে হিমবাহ ধসের ফলে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের শহর ও গ্রামগুলো একসঙ্গে ভেসে গেছে। কাদায় ঢেকে গেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা। কাদা থেকে একের পর এক লাশ উঠে আসছে; প্রতি ঘণ্টায় মৃতের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। বিবিসির খবর অনুযায়ী,
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, নেপাল পুলিশ সর্বশেষ ৩৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর দিয়েছে। এর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩৫৯। দেখা যাচ্ছে, মৃতের সংখ্যা ঘণ্টা ঘণ্টায় বেড়ে চলছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হঠাৎ করে নেপালের রাসুয়া জেলার দিকে ধেয়ে আসে আকস্মিক ঢল। হিমবাহ ধসের পর চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ তীব্র গতিতে প্রবাহিত হলে এই বিপর্যয়ের সূচনা হয়। বন্যার তীব্র স্রোত ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে আঘাত হানে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায়।
উদ্ধার অভিযান চলাকালীন ওপর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে বন্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একসময় প্রাণবন্ত থাকা গ্রামগুলোর ঘরবাড়ি এখন কাদায় মাখামাখি হয়ে গেছে। নেপালের সেনাবাহিনী উপদ্রুত এলাকা থেকে আকাশপথে লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
রেডক্রসের (আইএফআরসি) নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, এই বন্যায় কিছু গ্রাম ও ব্যস্ততম বাজার এলাকা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।
নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া সহ বেশ কয়েকটি দেশের পর্যটকও নিখোঁজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এদিকে, একই এলাকায় নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্টের (ইসিমোড) জলবায়ুঝুঁকি বিশেষজ্ঞ চিয়াংগং ঝাং এই সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি জানান, চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী নদীর উজানে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ আটকে আছে। এ কারণে সেখানে আরেকটি বন্যা দেখা দিতে পারে।
আটকে থাকা পানি হঠাৎ ধেয়ে এলে ভাটি অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
একই ধরনের ভয়াবহ সতর্কবার্তা এসেছে চীন থেকেও। দেশটি জানিয়েছে, নেপালে হঠাৎ একটি কৃত্রিম লেক তৈরি হয়েছে, যা উপচে পড়ে যে কোনো সময় নতুন আরেকটি ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানতে পারে।
চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রাকৃতিক বাধায় আটকে গিয়ে প্রতিবন্ধক হ্রদটি তৈরি হয়েছে। যদি বাধটি ভেঙে যায়, তাহলে আটকে থাকা বিপুল পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নতুন আরেকটি ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
নতুন সৃষ্ট কৃত্রিম লেকটি ইতোমধ্যে পানিতে ভরে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে লেকটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল বলে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় হিসাব করেছে। আগামী তিন দিনে এতে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে।
তিব্বতে উৎপত্তি হওয়া নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে নতুন লেকটি তৈরি হয়েছে। এই লেকের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে এবং চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য বন্যা হলে কী হতে পারে, সেটি নিরূপণ এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তার বিষয়টি দেখছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন