প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ন্যূনতম ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, বুধবার জাতীয় সংসদে নরসিংদী-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে হাম ও রুবেলার প্রাদুর্ভাব দূরীকরণ এবং সম্পূর্ণ নির্মূলের লক্ষ্যে সরকার ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং গ্যাভি’র সহযোগিতায় একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দেশের অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় এনে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ বলয় বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তোলা।
মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার দেশব্যাপী জরুরি ও সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। রুটিন টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।
এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকার অতিরিক্ত ডোজও প্রদান করা হচ্ছে, বলেছিলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং কক্সবাজারসহ ঘনবসতিপূর্ণ ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব এলাকায় আগামী কয়েক মাস ধরে গলি ও পাড়াভিত্তিক মাইক্রো-প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে নিবিড় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকরাঙ্গ করতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর টিকাদানের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ই-ট্র্যাকার সিস্টেম সম্প্রসারণ এবং শতভাগ অনলাইন নিবন্ধন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও টিকার গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কঠোর মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, নজরদারি ও দ্রুত সাড়াদান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে মাঠপর্যায়ে কমিউনিটি-ভিত্তিক নজরদারি দল গঠন করা হচ্ছে।
কোনো এলাকায় হামের লক্ষণ দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দ্রুত রোগ নির্ণয়ের জন্য পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট সরবরাহ ও হামজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ে টিকাদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, টিকা নিয়ে সামাজিক দ্বিধা, গুজব ও অবহেলা দূর করতে উঠান বৈঠক, মাইকিং এবং গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে কর্মজীবী ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের অভিভাবকদের সচেতন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগে ৫২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯১ জন।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হাম ও রুবেলা নির্মূলে সরকারের চলমান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন