প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর সম্প্রসারণ এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের বনসাই বিশ্ববিদ্যালয়কে বটবৃক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য।’
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর অডিটোরিয়ামে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সভায় অংশ নেন।
উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন, অ্যাকাডেমিক পরিসর সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুমোদিত হয়েছে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের টার্মস অব রেফারেন্স (ToR) অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ সম্প্রসারণের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মাত্র পাঁচটি বিভাগ নিয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর বাড়াতে বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন ৩০টি বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর আটটি বিভাগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বিভাগগুলো হলো—ইংরেজি, সমাজকর্ম, হিসাববিজ্ঞান, আইন, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃষি ও পশুপালন।
তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান, নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত অভিধান ও নিজ নিজ বিভাগের কারিকুলাম তুলে দিয়ে নবীনবরণ আয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পাঠকক্ষ সম্প্রসারণ এবং লাইব্রেরি অটোমেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য পৃথক কক্ষ, কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আগামী ১০ ও ১১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এতে দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশ নেবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অ্যাকাডেমিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বর্তমান সরকারের বিশেষ সহযোগিতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমালোচনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যেকোনো যৌক্তিক পরামর্শ ও গঠনমূলক সমালোচনা তিনি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন। তবে সমালোচনা হতে হবে তথ্যনির্ভর, দায়িত্বশীল ও শালীন ভাষায়।
তিনি বলেন, যারা অর্থ, ভিউ কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে সমাজকে বিভ্রান্ত করেছেন, তারা দেশ ও সমাজের শত্রু এবং গুণীজনের খুনি; তাদের কখনো ক্ষমা করা হবে না। এ ছাড়া অনুমোদনহীন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে অরুচিকর এবং বিকৃত তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান বলেন, নতুন আটটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় স্থান নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ভবন ভাড়া নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবন নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহারিক উপযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার। এ পরিবারের সবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা ও নতুন বিভাগ সম্প্রসারণের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নতুন বিভাগগুলোর শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সমস্যা বা অসন্তোষ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক অগ্রগতি, নতুন আটটি বিভাগ চালুর প্রস্তুতি, স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের উদ্যোগ এবং গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তাঁরা নতুন বিভাগগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভবন ভাড়া নেওয়াকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সমস্যা তথ্য-প্রমাণসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষা ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন