প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পেশাদার জীবনে রাত জেগে কাজ করার প্রচলন থাকলেও, এবার এক নারী কেবল ঘুমিয়েই সাফল্য অর্জন করেছেন। ভারতের মুম্বাইয়ের বাসিন্দা জিনিয়া চ্যাটার্জি এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে ৯.৬ লাখ রুপি এবং একটি স্পন্সর করা ছুটি কাটানোর সুযোগ লাভ করেছেন।
‘স্লিপ ইন্টার্নশিপ’ নামক এই প্রতিযোগিতায় গোটা ভারত থেকে দুই লাখের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে জিনিয়াকে দেশটির ‘স্লিপ চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মুকুট পরানো হয়।
ঘুম ও আরামদায়ক জীবনযাত্রার ব্র্যান্ড ‘ওয়েকফিট’-এর উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী ইন্টার্নশিপটি আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগীদের মূল কাজ ছিল নিয়মিত ঘুমানো, নির্দিষ্ট রুটিন বজায় রাখা এবং সৃজনশীল কিছু সাপ্তাহিক চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করা।
প্রাথমিক বাছাই এবং ব্যক্তিগত ইন্টার্নশিপের কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে দুই লাখের বেশি আবেদনকারী থেকে মাত্র ১০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়। প্রায় ৬০ দিন ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় প্রার্থীরা তাদের ঘুমের পারফরম্যান্স ট্র্যাক করতেন এবং প্রতিদিনের স্কোরের ভিত্তিতে লিডারবোর্ডে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হতো।
তবে প্রতিযোগিতাটি কেবল বেশি বা ঠিকমতো ঘুমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর পাশাপাশি প্রতিযোগীদের আরও বিভিন্ন সৃজনশীল ও মজার অ্যাসাইনমেন্টেও অংশ নিতে হয়েছিল।
সাপ্তাহিক এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে ‘স্লিপ সিনেমা’ পর্বে প্রতিযোগীদের বিখ্যাত সব সিনেমার দৃশ্য ঘুমের থিম দিয়ে পুনর্নির্মাণ করতে হতো। ‘স্লিপ বিঙ্গো’ পর্বে এক সপ্তাহ ধরে নিজের ঘুমের অভ্যাস মূল্যায়ন করতে হতো এবং ‘আন্ডারকভার স্লিপ মিশন’ নামক অদ্ভুত টাস্কে সাধারণ কথোপকথনের মধ্যে ধরা না পড়ে ১০ বার ‘কম্বল’ বা ‘বালিশ’ শব্দ দুটি ব্যবহার করতে হতো। প্রতি সপ্তাহে সেরা পারফর্ম করা প্রতিযোগীকে ‘প্রো স্লিপার অব দ্য উইক’ খেতাব দেওয়া হতো।
এভাবে দুই মাস পর জিনিয়া চ্যাটার্জির পাশাপাশি রত্নগিরি মানিকান্দিন এবং মেহিক খোত সেরা তিন জনের তালিকায় জায়গা করে নেন। তবে হায়দরাবাদের করিম খান সবচেয়ে বেশি সাপ্তাহিক চ্যালেঞ্জ জেতার সুবাদে ওয়াইল্ডকার্ড এন্ট্রি নিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করেন এবং ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা দাঁড়ায় চারে।
যেভাবে জয় ছিনিয়ে নেন জিনিয়া
‘বিগ বেড’ নামের গ্র্যান্ড ফাইনালে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথমটি ছিল ‘মেমোরি ফোম চ্যালেঞ্জ’, যেখানে রেফারেন্স ছবি দেখে বেডরুমের সেটআপ হুবহু তৈরি করতে হতো। এর মাধ্যমে প্রতিযোগীদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি এবং দলগত কাজকে পরীক্ষা করা হতো।
দ্বিতীয়টি ছিল ‘স্লিপ অকশন’ বা ঘুমের নিলাম। এই পর্বে ফাইনালিস্টদের বালিশ, কম্বল, এসি কন্ট্রোল, আলো এবং সাউন্ড সেটিংসের মতো প্রয়োজনীয় ঘুমের ব্যবস্থাগুলোর জন্য বিড (নিলামে দাম হাঁকা) করতে হয়।
এরপর ফাইনালিস্টরা তাদের নিজ নিজ কাস্টমাইজ করা পরিবেশেই জীবনের শেষ রাতের মতো ঘুমান। এই রাতের ঘুমের স্কোরই নির্ধারণ করে দেয় চূড়ান্ত বিজয়ী কে হবেন। আর সবশেষে সবাইকে পেছনে ফেলে বিজয়ের হাসি হাসেন মুম্বাইয়ের জিনিয়া চ্যাটার্জি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই স্লিপ ইন্টার্নশিপের প্রথম চার মৌসুমে ১০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে এবং মোট ৬৫ জন ইন্টার্ন প্রত্যেকে ১ লাখ টাকা করে স্টাইপেন্ড জিতে নিয়েছেন। ওয়েকফিটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে এই প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ মৌসুমের প্রি-রেজিস্ট্রেশনও শুরু হয়ে গেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন