প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজারে একটি ছাত্রী মেস থেকে র্যাব পরিচয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করলে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই তারা চলে যান বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ছোট বোনের সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে র্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
এদিন সকালে কলতাবাজারের জনসন রোডের লবণের গুদাম গলির একটি ছাত্রী মেসে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মমতাজ আরা বর্ষা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ আরা বর্ষা দাবি করেন, চলতি বছরের মে মাসে তার ছোট বোনের সঙ্গে সুমন মিয়ার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই সুমন তাদের পরিবার ও তার বোনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। গত মাসে দিনাজপুর জজকোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে তাদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন বর্ষা।
তিনি বলেন, ভোরে সিভিল পোশাকে কয়েকজন তাদের ফ্ল্যাটের দরজায় এসে র্যাবের পরিচয় দেন। তবে তারা কোনো আইডি কার্ড, মামলা বা ওয়ারেন্ট দেখাননি। বারবার ওয়ারেন্ট দেখতে চাইলেও তারা তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বাসা তল্লাশি করেন।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন বর্ষা।
মেসের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ভোর পৌনে ৬টার দিকে র্যাবের পরিচয় দিয়ে কয়েকজন সিভিল পোশাকের ব্যক্তি সেখানে আসেন। তারা মেসে তল্লাশি করার কথা জানান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন। এমনকি দরজার লক ভেঙে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আরও একজন বলেন, পরবর্তীতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে আসেন। এর মধ্যে র্যাবের পরিচয়ে আরও কয়েকজন সেখানে আসেন। মোট চারটি গাড়ি এসেছিল। একপর্যায়ে মমতাজ আরা বর্ষাকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। প্রথমে সেখানে ‘দুইজন সন্ত্রাসী’ থাকার কথা বলা হলেও পরে ৩০ লাখ টাকা চুরির মামলার কথা বলা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেখানে আসেন। র্যাবের পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে র্যাবের সদস্যরা আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। ঘটনাটি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক বলেন, সকালে একজন শিক্ষার্থী তাকে মেসে র্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রথমে ওই ব্যক্তিরা ভুল করে সেখানে এসেছেন বলে জানান। পরে তারা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীকে গাড়িতে উঠানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি, শিক্ষার্থী এখান থেকে যাবে না। শিক্ষার্থী কোনো অপরাধ করলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অধ্যাপক তারেক বিন আতিক আরও বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় ও মোবাইল নম্বর দিতে রাজি হননি। বিষয়টি সূত্রাপুর থানার পুলিশকেও জানানো হয়।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আসা ব্যক্তিরা র্যাবের সদস্য ছিলেন এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিলেন। পরে পুলিশ জানতে পারে, এটি পারিবারিক বিরোধের কারণে করা একটি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়ে তারা চলে যান।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মমতাজ আরা বর্ষার বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে।
তবে সুমন মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন