প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী ধনবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে দোকানঘর ভাঙচুর ও আড়াই লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সময় দোকানের ভেতরে থাকা দুই যুবক খুঁটির নিচে চাপা পড়ে আহত হন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী খোদেজা বেগম। পরদিন সকালে তার ছেলেকে পথরোধ করে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (১০ অক্টোবর) ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার জাগিরাচালা বাজার এলাকায় খোদেজা বেগমের নিজস্ব আড়াই শতাংশ জমিতে একটি দোকানঘর ছিল। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ট্রাক দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দোকানঘরটি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আ. জলিল দুলাল (৬০), মো. কাজল (৩০), সৌরভ (১৯) ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
খোদেজা বেগমের অভিযোগ, ট্রাকের সঙ্গে রশি বেঁধে টানাহেঁচড়া করে পুরো দোকানঘরটি ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় দোকানের ভেতরে তার ছেলে মো. কাওসার মিয়া (১৯) ও ভাতিজা মো. এনামুল হক (২২) অবস্থান করছিলেন। দোকানঘর ভাঙার সময় খুঁটি তাদের ওপর পড়ে তারা গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। এ জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেছেন খোদেজা বেগম।
এদিকে, শনিবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রাস্তায় বের হলে তার ছেলে মো. সোয়াইবের পথরোধ করে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে সোয়াইবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয় এবং নাকে আঘাত লেগে রক্তপাত হয়। আ. জলিল দুলালের আঘাতে সোয়াইবের ডান হাতের নখ ভেঙে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আহত ব্যক্তিরা ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলে জানান খোদেজা বেগম। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আ. জলিল দুলাল বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তারা হাবিবুল্লাহর কাছ থেকে সমিতির নামে কিনেছেন। জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য হাবিবুল্লাহকে বলা হলে তিনি ঢাকা থেকে এসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা দোকানঘরটি ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। সকালে তিনি শুনেছেন, হাবিবুল্লাহ লোকজন নিয়ে এ কাজ করেছেন।
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আ. জলিল দুলাল বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে হাবিবুল্লাহর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন