প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে, তার জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই গণনার ফলাফলে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার কট্টর ডানপন্থি ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি মিত্ররা ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও তার জোটের অন্য তিনটি দল ৪৮টি আসন পেতে পারে। দুই নেতা জানিয়েছেন, তারা সরকার গঠনের লক্ষ্যে জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালাবেন।
এদিকে এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে। তারা রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে, সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় এসব দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, ইহুদি দলগুলোর মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া সব দলই আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছে।
এখনো সেনাসদস্য ও কূটনীতিকদের ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ভোট গণনা করা হয়নি। ফলে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে আরও এক থেকে দুই দিন লাগতে পারে, সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।
চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। এরপর, যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হবে, তাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন তিনি। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, সরকার গঠনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত ইসরাইলে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
বুধবার জেরুজালেমে নিজের বাসভবনে এক বৈঠকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
তিনি বলেন, ‘এটি ইসরাইলি সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। ইসরাইলে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা গভীর, তা দেখে বিস্মিত হয়েছি।’
হারজোগ আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল হাতে পাওয়ার আশা করছেন। এরপর তিনি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের পর আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে, যাতে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো যায়। সবার কাছে আমার প্রত্যাশা, এখানে আলোচনায় আসা প্রত্যেকেই খোলা মন নিয়ে আসবেন।’
যদিও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট দুজনেই সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার দাবি করেছেন।
ইসরাইলের তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রকাশিত প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে গাদি আইজেনকোটের ‘চেঞ্জ ব্লক’ নেসেটে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি আসন পেতে পারে। এই ফলের পর আইজেনকোট বলেন, জনগণ ‘পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে’।
তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির নির্বাচনী সদর দফতরে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতার জোট জনগণের আস্থা হারিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়কে একটি জায়নবাদী সরকারে রূপ দিতে আমি আমার জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কাজ করব।’
এদিকে জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দফতরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার ডানপন্থি জোট ‘বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।’ নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘জায়নবাদবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠন করে ইসরাইলকে বিপদের মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
সূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন