প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সে টানা বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার পর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটির কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ এবং সমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে রাতের চলাচল সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্ন্যু জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে কারফিউ আরোপ করা হবে। তবে প্যারিসজুড়ে সর্বাত্মক কারফিউ আরোপের পক্ষে নয় সরকার। বরং সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা বেশি ঘটে এমন এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিধিনিষেধ আরোপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপুবলিক এবং লে আল এলাকার কিছু অংশে রাতের কারফিউ এবং নির্দিষ্ট সময় থেকে বিক্ষোভ-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লিল ও নিসসহ অন্যান্য শহরের কিছু এলাকায়ও রাতের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে শহরভেদে এসব ব্যবস্থার সময়সীমা ও শর্ত আলাদা।
গত সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহায়তা এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও কাজ করছে সরকার।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহের সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এসব ঘটনায় হতাহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং আর্থিক ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণের কাজ চলছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি এবং কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি; বরং নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও বিক্ষোভের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন