প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁর এলাকাবাসী রাতে পাচারের সময় ১২০ বস্তা সার হাতেনাতে আটক করেছে। বিক্ষুব্ধ জনগণের প্রতিবাদে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে সারভর্তি দুটি গাড়ি জব্দ করে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সেগুলো হেফাজতে রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির আশ্বাস দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি-হাপানিয়া সড়কে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ডিলার পয়েন্ট থেকে এসব সার অন্য জেলায় পাচার করা হচ্ছিল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটিতে অবস্থিত সারের অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট 'মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স'। মঙ্গলবার রাতে ওই ডিলার পয়েন্টের মালিক ওয়াসেফ আলী মোল্লার গোডাউন থেকে দুটি নসিমন-ভটভটিতে ১২০ বস্তা ডিএপি সার বোঝাই করে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা দুবলহাটি-হাপানিয়া সড়কে গাড়ি দুটি থামিয়ে দেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নসিমনের চালকরা প্রথমে ইণ্টিতলা মোড়ে যাওয়ার কথা বললেও, পরে তারা স্বীকার করে যে সারগুলো রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সার সংকটে ভুগছেন, এবং স্থানীয় ডিলারের মাধ্যমে অন্য জেলায় সার পাচারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িদুটি আটকে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে খবর দেয়।
তথ্য পেয়ে মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের ম্যানেজার মামুন ঘটনাস্থলে আসলে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক ওয়াসেফ আলী মোল্লার নির্দেশে তিনি নসিমনদুটি ছেড়ে দেন। তবে সেগুলো কোথায় বিক্রি করা হয়েছে বা পাঠানো হচ্ছিল, সে বিষয়ে মালিক তাকে স্পষ্ট কিছু জানাননি। প্রশাসন আসার আগেই তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভোগান্তির কথা জানিয়ে স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, জমিতে সার দেওয়ার উপযুক্ত সময় চললেও তারা সময়মতো সার পাচ্ছেন না। ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তিন দিন ধরে কোনো সার মেলেনি। অথচ তাদের ইউনিয়নের সার গোপনে অন্য জেলায় চালান করে দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী ও কৃষকদের সজাগ দৃষ্টির কারণেই আজ পাচার রোধ সম্ভব হয়েছে। তারা এসব সার দ্রুত স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জোর দাবি জানান।
খবর পেয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর ইউএনও মো. নূরুল আমিন জানান, সারের ডিলার পয়েন্ট থেকে শতাধিক বস্তা সার অন্য জেলায় পাচার হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও কৃষি কর্মকর্তাসহ তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছে দেখা যায় ৬০ বস্তা করে দুটি গাড়িতে মোট ১২০ বস্তা ডিএপি সার স্থানীয় জনতা আটকে রেখেছেন।
তিনি আরও জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ডিলার বা তার কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। 'সার আইন ২০০৬' অনুযায়ী সার ভর্তি নসিমনদুটি জব্দ করে দুবলহাটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নিরাপদ সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে জব্দকৃত ১২০ বস্তা সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে দুবলহাটি ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে।
সার বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত সব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
কৃষকদের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা অসাধু ডিলারের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ডিলার সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির সাহস না পায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন