প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালীতে ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গার্ডার ব্রিজ আট বছরেও সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়সীমা অতিবাহিত হলেও ব্রিজটির দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনও এটি পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থে নির্মিত এই অবকাঠামোটি যোগাযোগের সুবিধার পরিবর্তে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ফলইবুনিয়া গ্রামের পাঙ্গাসিয়া-জোলাগাতি সড়কের লক্ষণ মিস্ত্রির বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ব্রিজটির এমন অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ পড়ে থাকলেও তা সমাপ্ত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন তারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয়দের পারাপারে দুর্ভোগ অনেক গুণ বেড়ে যায়।
এলজিইডি সূত্র এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৩ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নির্মাণকাজ ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি শুরু হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ভান্ডারিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইশান এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বহু বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের মূল কাঠামো তৈরির পর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না করায় এটি মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে ব্রিজে ওঠার জন্য সুপারি গাছ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সাঁকো। প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে শাপলেজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জয়তুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শাপলেজা, জোলাগাতি ও পশ্চিম ফলইবুনিয়া গ্রামের শিশু, নারী ও বৃদ্ধরাসহ পিরোজপুরগামী হাজারো মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।
শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রুবেল বলেন, "ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করা হলে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসান ঘটবে।"
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইশান এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন দাবি করেন, "আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ৮২ লাখ টাকার কাজ করেছি, কিন্তু এখনো কোনো অর্থ বা বিল হাতে পাইনি। এলজিইডি অফিসে বিলসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া আছে। বিল পেলেই বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে দেব।"
এলজিইডির কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, "ব্রিজটির কাজ অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ঠিকাদার বিল না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করে ব্রিজটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।"
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়া সত্ত্বেও সরকারি অর্থে নির্মিত ব্রিজটি বছরের পর বছর ফেলে রাখায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। তাদের জোর দাবি, অনতিবিলম্বে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন