প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বালি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার জন্য ডেকে নিয়ে বিজেপি নেতা-সহ তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) গভীর রাতে ভারতের ছত্তিসগড় রাজ্যে সোনহাট থানার নওগাইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি নেতা এবং সাবেক জনপদ পঞ্চায়েত সভাপতি ভরত সিং, যিনি ‘লল্লা সিং’ নামেও পরিচিত, বীরেন্দ্র সিং এবং নাগেন্দ্র সিং। তাদের মধ্যে একজন পেশায় শিক্ষক এবং ভরত সিংয়ের চাচাতো ভাই।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিজেপি নেতা ভরত সিং বালু খনি পরিচালনা সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি দুর্বৃত্তদের ফাঁদে পড়ে যান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভরত সিংকে বহনকারী ফরচুনার এসইউভিকে ট্রাক দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং এরপর তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুন নিভে যাওয়ার পর গাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছেন—অক্ষত ত্রিপাঠী, বিশাল ত্রিপাঠী, সত্যপ্রকাশ ত্রিপাঠী এবং মান্নু ত্রিপাঠী। এছাড়া অন্য অভিযুক্তদের খোঁজার জন্য অভিযান চলছে। হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নয়জন আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার বালু খনির ইজারা ভরত সিংয়ের পরিবারের কাছে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর পর থেকেই সোনহাট, কৈলাশপুর, তেলিমুডা, বেলিয়া ও ছিংগুরা এলাকায় বালু পরিবহন এবং খনি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কথিত অবৈধ অর্থ আদায় নিয়ে মারাত্মক দ্বন্দ্ব শুরু হতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ভরত সিংয়ের গোষ্ঠী এবং বিজেপি নেতা মনোজ ত্রিপাঠী পরিবারের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে এই বিরোধ চলছিল।
ত্রিপাঠী পরিবারের মালিকানাধীন টিপার ট্রাকগুলি বৈকুণ্ঠপুরে বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। খনি থেকে উত্তোলিত বালুর অর্থ প্রদান এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধটি আরও গভীর পর্যায়ে চলে যায়। শুরুতে এটি ছিল খনি-সংক্রান্ত বিরোধ, তবে পরে এটি পরিণত হয় প্রভাব বিস্তারের লড়াই, ভীতি প্রদর্শন ও স্থানীয় আধিপত্যের যুদ্ধে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ভরত সিং ও তার সহযোগীরা যে ফরচুনার গাড়িতে ছিলেন, সেটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসইউভির সামনে এবং পিছনে ট্রাকেরা দাঁড়িয়ে পালানোর পথ বন্ধ করে দেয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় গাড়ির ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান ভরত সিং এবং অন্য দুজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন