প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নদীর উপরে নয়, বরং নদীর তলদেশের নিচ দিয়ে ট্রেনে চড়ে পার হওয়া সম্ভব একটি নদী। এটি শুনতে অবাক লাগলেও চীনের সাংহাইয়ে এমন একটি ব্যতিক্রমী পর্যটন আকর্ষণ বিদ্যমান। হুয়াংপু নদীর নিচ দিয়ে নির্মিত বান্ড সাইটসিয়িং টানেলে যাত্রীদের জন্য আলোর, লেজারের এবং শব্দপ্রভাবের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে। মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিটের এই যাত্রা পর্যটকদের কাছে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
সম্প্রতি, একটি ভ্লগার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এই ট্রেনযাত্রার ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে নদীর তলদেশ দিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি টানেলের ভেতরের আলোকসজ্জা ও ব্যতিক্রমী পরিবেশের চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন ওই ভ্লগার। এরপর ফুল দিয়ে সাজানো একটি দেয়াল পেরিয়ে আরও নিচে এগিয়ে যান। টিকিট সংগ্রহ করে টানেলের ভেতরে প্রবেশের পর শুরু হয় তার বিশেষ এই যাত্রা।
টানেলের ভেতরে ঝলমলে এলইডি আলো, লেজার প্রক্ষেপণ এবং মহাকাশের আবহ তৈরি করা বিভিন্ন শব্দপ্রভাব বিদ্যমান। সব মিলিয়ে কয়েক মিনিটের এই যাত্রায় নদী পারাপারের পাশাপাশি বিনোদনের সুযোগও পান যাত্রীরা।
নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ওই ভ্লগার মন্তব্য করেন, "এটা সত্যিই দারুণ! চীন কীভাবে প্রতিটি বিষয়কে একটি বিশেষ অভিজ্ঞতায় পরিণত করে, তা আমার ভীষণ ভালো লাগে।"
তার মতে, চীন এখানে সাধারণ একটি ভূগর্ভস্থ ট্রেনপথ নির্মাণ করেই নদী পারাপারের ব্যবস্থা করতে পারত। কিন্তু এর পরিবর্তে যাত্রাপথটিকেও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। টানেল পেরিয়ে নদীর অপর পাড়ে পৌঁছে সেখানকার দৃশ্যও ক্যামেরায় ধারণ করেন তিনি।
কোথায় অবস্থিত এই টানেল?
বান্ড সাইটসিয়িং টানেল চীনের সাংহাই শহরে অবস্থিত। প্রায় ৬৪৬ দশমিক ৭ মিটার দীর্ঘ এই টানেল হুয়াংপু নদীর নিচ দিয়ে শহরের ঐতিহাসিক বান্ড এলাকা ও পুডংয়ের লুজিয়াজুই আর্থিক জেলাকে সংযুক্ত করেছে।
এখানে প্রচলিত মেট্রোরেলের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় যাত্রীবাহী কেবিন ব্যবহৃত হয়। টানেল পার হতে সময় লাগে আনুমানিক ৩ থেকে ৫ মিনিট। এই সময়ে যাত্রীরা আলো, লেজার এবং শব্দের সমন্বয়ে তৈরি মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনী উপভোগ করতে পারেন।
টিকিটের দাম কত?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টানেলটির একমুখী যাত্রার টিকিটের দাম ৫০ চীনা ইউয়ান। আর যাওয়া-আসার টিকিটের দাম ৭০ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ৯২৬ টাকা ও ১ হাজার ২৯৯ টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনে টাকার অঙ্কে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
এক মিটারের কম উচ্চতার শিশুরা বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ পায়। আর এক মিটারের বেশি থেকে ১ দশমিক ৩ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার শিশুদের জন্য অর্ধেক দামে টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ভ্রমণের আগে টিকিটের সর্বশেষ মূল্য, শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম এবং চলাচলের সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
নদীর তলদেশ দিয়ে যাতায়াতের সুযোগের সঙ্গে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও শব্দের সমন্বয় সব মিলিয়ে সাংহাইয়ের এই টানেল পর্যটকদের জন্য সাধারণ যাত্রাপথকে বিশেষ অভিজ্ঞতায় রূপ দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন