প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভের মিত্রদের কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা বৃহস্পতিবার বিকেলে হতাহতের সংখ্যা জানান। আহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে। এ ছাড়া স্প্লিন্টারের আঘাতে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলার সময় দিনিপ্রো রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি নিয়মিত লোকাল ট্রেন ও একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা প্রকাশিত ছবিতে প্ল্যাটফর্মে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন। ছবিতে জানালার কাচ ভাঙা ও পুড়ে যাওয়া দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনও দেখা গেছে।
হামলার নিন্দা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত মস্কো ও দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা উচিত নয়। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি ইউক্রেনের মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ হামলার মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ওলেশকি শহরকে ঘিরে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা শহরটির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উভয় দেশ জানিয়েছে, স্থানীয় যুদ্ধবিরতি তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটস জানিয়েছেন, তিনি বেলারুশ ও রাশিয়া হয়ে একটি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে ওলেশকির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।
দিনিপ্রোতে রুশ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি ওলেশকিকে কেন্দ্র করে চলমান সীমিত যুদ্ধবিরতির চেয়ে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
বেসামরিক নাগরিক ও যাত্রীবাহী ট্রেনকে লক্ষ্য করে চালানো এ হামলা ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন